মহান আল্লাহ তাআলার দশ অসিয়ত পর্বঃ ১

আল্লাহ তাআলার দশ অসিয়ত

পর্বঃ ১

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর পবিত্র কুরআনের সূরা আনআমে দশটি নির্দেশ উল্লেখ করেছেন মানুষের জন্য। এ দশটি নির্দেশ তিনি তিনটি আয়াতে উল্লেখ করেছেন। প্রত্যেকটি আয়াতের শেষে তিনি বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে তিনি তোমাদের অসিয়ত করেছেন’। এ কারণেই এ নির্দেশগুলোকে ইমাম ও মুফাসসিরগন এক কথায় ‘দশ অসিয়ত’ বলে অভিহিত করেছেন। আসলে এ দশটি বিষয় এমন যার মধ্যে মুসলমানদের দীন-ধর্ম, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নির্ভর করে। শুধু আল-কুরআনেই নয় অন্যান্য আসমানী কিতাবেও এ দশটি অসিয়তের কথা উল্লেখ রয়েছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿১৫১﴾ وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿১৫২﴾ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿১৫৩﴾
‘বল, ‘আস, তোমাদের প্রভূ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তোমাদেরকে তা পাঠ করে শুনাই। তা এই যে, তোমরা তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না, পিতা-মাতার প্রতি সদাচার করবে, দারিদ্র্যতার কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে জীবিকা দিয়ে থাকি। প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে অশ্লীল নিকটবর্তী হবে না। আল্লাহ যাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তোমরা তাকে হত্যা করবে না। তোমাদেরকে তিনি এ অসিয়ত করলেন, যেন তোমরা অনুধাবন কর’। (১৫১)
‘ইয়াতীম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন- উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা তার সম্পত্তির কাছে যাবে না এবং পরিমাণ ও মাপে ন্যায্যভাবে পুরোপুরি দেবে। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পন করি না। যখন তোমরা কথা বলবে তখন ন্যায় পরায়ণতা অবলম্বন করবে, স্বজনদের সম্পর্কে হলেও। আর আল্লাহর সাথে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করবে। তোমাদেরকে তিনি অসিয়ত করলেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর’। (১৫২)
‘আর এ পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করবে এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। তিনি তোমাদের অসিয়ত করলেন, যেন তোমরা সাবধান হও’। (১৫৩)

এ আয়াতগুলো হল সূরা আনআমের ১৫১, ১৫২ ও ১৫৩ নং আয়াত। এ তিনটি আয়াত সম্পর্কে প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন:

من أراد أن يقرأ صحيفة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي عليها خاتمه فليقرأ هؤلاء الآيات. رواه الترمذي.
‘ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহীফা পাঠ করতে চায় যার উপর তাঁর মোহর রয়েছে। সে যেন এ আয়াতগুলোকে পাঠ করে।’ বর্ণনায় : তিরমিজী

‘যার উপর তাঁর মোহর রয়েছে’ এর অর্থ হল: এ আয়াতগুলো হল মুহকাম বা স্পষ্ট এবং তার নির্দেশগুলো কোন অবস্থাতেই রহিত হবার নয়।
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আল-কুরআনের ব্যাখ্যায় খুবই খ্যাতিমান ছিলেন তিনি এ আয়াতগুলো সম্পর্কে বলেন:

في الأنعام آيات محكمات هن أم الكتاب ثم قرأ- قُلْ تَعَالَوْا .. . . أخرجه الحاكم
“সূরা আল-আনআমে কতগুলো মুহকাম আয়াত রয়েছে। এগুলো আল-কুরআনের মূল বিষয়’। এ কথা বলে তিনি এ আয়াতগুলো পাঠ করতেন। বর্ণনায় : হাকেম

তাফসীরবিদগণ বলেন, দশটি অসিয়ত-সংবলিত এ তিনটি আয়াত ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস, পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করে, শানি- ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

প্রথম আয়াতটিতে পাঁচটি অসিয়ত রয়েছে। দ্বিতীয়টিতে চারটি এবং তৃতীয়টিতে একটি। আর এর প্রতিটি আয়াত একটি অভিন্ন বাক্য দিয়ে শেষ করা হয়েছে। তাহলো:

ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ
“এটা, যা তিনি তোমাদেরকে অসিয়ত করলেন ”।

‘আদেশ’ বা ‘নির্দেশ’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘অসিয়ত’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়বস’র গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে। চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় আদেশ-নির্দেশকে অসিয়ত বলা হয়ে থাকে। যেমন কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার সন্তানদের অসিয়ত করে যান। এর অর্থ হলো এগুলো আমার জীবনের শেষ কথা। যা কখনো পরিবর্তন হবে না। যা আমি আমার স্বার্থে নয়, তোমাদের কল্যাণে তোমাদের স্বার্থেই বলে গেলাম। তোমরা এ থেকে কখনো বিচ্যুত হবে না। এগুলো আমার সারা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে চূড়ান- কথা।
এমনিভাবে এ দশটি অসিয়ত হলো মহান প্রভু, সর্বজগতের প্রতিপালক, সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ তাআলার অসিয়ত বা চূড়ান- নির্দেশ। এরপর তিনি আর কোন নির্দেশ দিবেন না। এ নির্দেশ পালন ও বাস-বায়নের মাধ্যমে মানুষ ইহ-পরকালীন জীবনে সফলতা অর্জন করবে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শানি- সফলতা ও নিরাপত্তা অর্জনের এ এক অনন্য ব্যবস্থাপত্র।
তাহলে আসুন, আমরা শুনে নেই আল্লাহ তার দশটি অসিয়তে কি হারাম করেছেন। আর কি করতে বলেছেন।

  • প্রথম অসিয়তঃ শিরক বর্জন করা

أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا
“তোমরা তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না।”
ঘৃণ্যতম হারাম হল শিরক। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় অপরাধ।
আল্লাহ তাআলা লুকমান হাকীমের উপদেশ উল্লেখ করে বলেনঃ
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
“তুমি আল্লাহর সাথে শিরক করবে না। নিশ্চয় শিরক মারাত্নক অন্যায়।” সূরা লুকমান, আয়াত ১৩
শিরক এতবড় অপরাধ যে, আল্লাহ রাহমানুররহীম, ক্ষমাশীল হওয়া সত্বেও তা ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, তার সাথে শরীক করা-কে। তা ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। যে কেহ আল্লাহর সাথে শরীক করে সে মহাপাপে আবদ্ধ হয়ে পড়ল।” সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮
হাদীসে এসেছে –
يقول ابن مسعود قلت يا رسول الله أي الذنب أكبر؟ قال أن تجعل لله نداً وهو خلقك (متفق عليه)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে মারাত্নক অপরাধ কী? তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর সাথে শরীক সি’র করবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম

শিরক কাকে বলে?
আল্লাহর সৃষ্টি ও কর্তৃত্বে অন্য কারো কোন প্রকার দখল আছে বলে বিশ্বাস করা, আল্লাহর যে সকল নাম ও গুণাবলি রয়েছে তার কোন একটি বা একাধিক অন্য করো আছে বলে বিশ্বাস করা, ইবাদত হিসাবে যে সকল কথা ও কাজ আল্লাহর জন্য নিবেদন করা উচিত, তার কোন কিছু আল্লাহ ব্যতীত অন্য করো জন্য নিবেদন করার নাম হল শিরক।
তাই মুলত শিরক তিন প্রকারঃ
এক. আল্লাহ তাআলার প্রভূত্ব ও কর্তৃত্বে শিরক :
আল্লাহ তাআলা আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই পরিচালনা করেন। সকল সৃষ্টির রিযক, জন্ম, মৃত্যু, কল্যাণ, অকল্যাণ তারই হাতে। তার কর্তৃত্ব ব্যতিরকে একটি পাতাও নড়ে না। এ বিষয়ে তার কোন সহযোগী নেই, নেই কোন অংশীদার। এ বিশ্বাস সকল মুসলমানের। শুধু মুসলমানেরই নয় এমনকি ইসলামপূর্ব যুগের মক্কার পৌত্তলিক-মুশরিরাও এ বিশ্বাস পোষণ করতো। তার এ কর্তৃত্বে ও প্রভূত্বে অন্য কারো অংশ আছে বলে বিশ্বাস করা হল শিরক।
দুই. আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে শিরক ঃ
আল্লাহর যে সকল নাম রয়েছে এবং তার যে সকল গুণ রয়েছে তার কোনটি অন্যের জন্য নির্ধারণ করা হল শিরক। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা। কোথায় কী হচ্ছে, তিনি সকল কিছু দেখছেন। কোন নবী, অলী, গাউস-কুতুব, ফেরেশেতা, দেব-দেবীর জন্য বা যে কোন সৃষ্টির জন্য এটা প্রয়োগ করা হল শিরক। এ গুণটা শুধু তারই। অন্য কারোর নয়।
তিন. ইবাদত বা উপাসনার ক্ষেত্রে শিরক:
যে সকল আকীদা-বিশ্বাস, কথা ও কাজ আল্লাহর জন্য নিবেদন করা হয়ে থাকে, তা অন্য কোন সৃষ্টির জন্য নিবেদন করা হল শিরক।
অর্থ্যাত ইবাদতের কোন কিছুই আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য পেশ করা যাবে না। আর এ ক্ষেত্রেই অধিকাংশ মানুষ শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।
যেমন সেজদা দেয়া বা মাথা নত করা একটি ইবাদত। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা একটি ইবাদত। বিপদে-আপদের তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া একটি ইবাদত। তার কাছে দুআ করা একটি ইবাদত . . . .। এর কোন কিছু আপনি যদি কোন মানুষ, নবী, অলী, গাউস-কুতুব, ফেরেশতা, জিন, দেব-দেবী, প্রতিমার জন্য নিবেদন করেন তাহলে আপনি শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়লেন।
শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়লে মানুষের সকল সৎকর্ম নষ্ট হয়ে যায়। কোন ভালোকাজ আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
শিরকের বিপরীত হলো তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। আর এ তাওহীদ হল মানুষের মুক্তির একমাত্র উপায়। দীন-ধর্মের রক্ষা-কবচ হলো তাওহীদ। আর দীন- ধর্ম বিনষ্টকারী হলো শিরক। শিরক প্রত্যাখান করার উপরই হল দীনে ইসলামের মূল ভিত্তি। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রথম অসিয়তে এ বিষয়টিকে স্থান দিয়েছেন।

 

  • দ্বিতীয় অসিয়তঃ মাতা-পিতার সাথে সদাচারণ

وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
“আর মাতা-পিতার সাথে সদাচারণ করবে।” অর্থাৎ আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন নিজ মাতা ও পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে। তাদের অবাধ্য হওয়া ও তাদের কষ্ট দেয়া-কে হারাম করেছেন। তারা বিরক্ত হয় এমন কোন আচরণ করা যাবে না।
যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴿২৩﴾ وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿২৪﴾
“তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না ও পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপণীত হয় তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। এবং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। তাদের উভয়ের জন্য দয়ার সাথে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে আমাকে তারা লালন-পালন করেছেন।” সূরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩-২৪

এমনিভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কালামের একাধিক স্থানে তাঁর ইবাদত করার আদেশের সাথে সাথে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মাতা-পিতা যদি কাফের বা মুশরিক হয় তবুও তাদের সাথে সদাচারণ করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ . وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
“আমি তো মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দু বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট। তোমার মাতা-পিতা যদি আমার সাথে শিরক করাতে তোমাকে পীড়াপীড়ি করে- যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই- তবে তুমি তাদের কথা মানবে না। তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সৎভাবে বসবাস করবে ।” সূরা লুকমান, আয়াত ১৪-১৫

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কুরআনে এমনিভাবে সাতটি স্থানে মাতা-পিতার সাথে সুন্দর ব্যবহার ও সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বুঝে আসে বিষয়টি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ এবং মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া কত বড় অপরাধ।
হাদীসে এসেছে –

يقول ابن مسعود رضي الله عنه (سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الأعمال أحب إلى الله؟ قال : الصلاة على وقتها، قلت ثم أي؟ قال ير الوالدين، قلت ثم أي ؟ قال الجهاد في سبيل الله. متفق عليه.
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সময় মত নামাজ আদায় করা।” আমি বললাম, এরপর কোন আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়? তিনি বললেন, “মাতা – পিতার সাথে সুন্দর আচরণ ও সদ্ব্যবহার।” আমি বললাম, এরপর কোন আমলটি আল্লাহর কাছে প্রিয়? তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম

পারিবারিক জীবনে শান্তি, সফলতা লাভ ও পরিবারের সি’তি লাভ করতে মাতা – পিতার সুন্দর সেবা-যত্ন ও সদাচারণের কোন বিকল্প নেই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ

رغم أنف رجل أدرك عند أبواه الكبر فلم يدخلاه الجنة. (رواه أحمد)
“ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হয়ে যাক, যে বৃদ্ধ মাতা- পিতাকে পেল কিন’ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না।” বর্ণনায়ঃ আহমাদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
“মাতা – পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন’ষ্টি। আর মাতা – পিতার অসন’ষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।” বর্ণনায় : তিরমিজী

 

  • তৃতীয় অসিয়তঃ দারিদ্রতার কারণে সন্তান হত্যা না করা

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ.
“দারিদ্রতার কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে জীবিকা দিয়ে থাকি।”
প্রথম অসিয়তে আল্লাহ নিজের অধিকারের কথা বললেন। দ্বিতীয় অসিয়তে আল্লাহ মাতা – পিতার অধিকারের কথা বললেন। তৃতীয় অসিয়তে আল্লাহ তাআলা সন্তানের অধিকারের কথা বলছেন। মাতা পিতা ও সন্তান বাদ দিলে মানুষের পারিবারিক জীবন বলতে আর কি থাকে? ইসলামে পরিবারকে এভাবেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
সমাজ জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান ধাপ হল পরিবার। পরিবার ব্যতীত মানুষ মানুষে পরিণত হতে পারে না।
দারিদ্রতার ভয়ে সন্তান হত্যা করাকে আল-কুরআনের একাধিক সন্তানে কঠোর ভাষায় নিষেধ করা হয়েছে। এ ধরনের কাজের নিন্দা করা হয়েছে প্রচণ্ডভাবে। যেমনঃ

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا
“তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র-ভয়ে হত্যা করবে না। তাদেরকে আমিই রিয্‌ক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা মহাপাপ।” সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩১

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ভবিষ্যত দারিদ্রতার ভয়ে সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। আর সূরা আনআমের এ আয়াতে দারিদ্রতার কারণে সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। কাজেই ফলাফল দাড়াল বর্তমান কিংবা ভবিষ্যত দারিদ্রতা, বাস্তব দারিদ্রতা কিংবা দারিদ্রতার আশংকা, যে কোন কারণেই হোক, সন্তান হত্যা করা বিরাট অপরাধ
যে সকল সন্তানদের হত্যা করা হয়, হাশরের ময়দানে তাদেরকে উপসি’ত করে হত্যাকরীদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হিসাবে আল্লাহ প্রশ্ন করবেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ ﴿৮﴾ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ ﴿৯﴾
“যখন জীবন–সমাধিস’ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?” সূরা আত-তাকবীর, আয়াত ৮-৯

হাদীসে এসেছে –
يقول ابن مسعود قلت يا رسول الله أي الذنب أعظم؟ قال : أن تجعل
لله ندا وهو خلقك، قلت ثم أي؟ أن تقتل ولدك خشية أن يطعم معك، قلت ثم أي؟ قال : أن تزاني حليلة جارك، ثم تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم : وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا . يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا .
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! সবচেয়ে বড় পাপ কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যে আল্লাহ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে তুমি যদি শরীক কর।” তারপর আমি প্রশ্ন করলাম, এর পরে সবচেয়ে বড় পাপ কী? তিনি বললেন, “তোমার সাথে খাবে এ ভয়ে তুমি যদি তোমার সন্তান কে হত্যা কর।” আমি আবার প্রশ্ন করলাম তারপরে বড় পাপ কী? তিনি বললেন, “তুমি যদি তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করো।”

এ কথা বলে তিনি আল-কুরআনের এ আয়াতগুলো পাঠ করলেন
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا . يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا .
অর্থ ঃ “যারা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ আহবান করে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরকে তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করে সে শাসি- ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাসি- দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে স’ায়ী হবে হীন অবস’ায়।” সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৬৮-৬৯

হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে
সর্বাবসস্থায়ই সন্তান হত্যা করা হারাম। দারিদ্রের কারণে হোক বা অন্য কোন কারণে বা কোন কারণ ব্যতীত। এ আয়াতে দারিদ্রতার কারণে সন্তান হত্যা করার নিষেধ এসেছে এ জন্য যে, জাহেলী যুগে দারিদ্রতার কারণে বা অপমানের ভয়ে সন্তান হত্যার প্রচলন ছিল।
সন্তান-সন্তদি, স্ত্রী পরিজন আল্লাহর নেআমাতসমূহের মধ্যে একটি বিরাট নেআমাত। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ اللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ . (النحل :৭২)
“আর আল্লাহ তোমাদের থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য সন্তান-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবুও কি তারা মিথ্যায় বিশ্বাস করবে এবং তারা আল্লাহর নেআমাত অস্বীকার করবে?” সূরা আন-নাহল, আয়াত ৭২

মাতা পিতা, স্ত্রী, সন্তানদি, নাতী-নাতনী নিয়ে সংসার ও পরিবার যে আল্লাহ তাআলার কত বড় দান, কত বিশাল নেআমাত তা ঐ ব্যক্তি কিছুটা অনুধাবন করেছে যার এগুলো ছিল এখন নেই। কিংবা এখন আছে কিন’ থেকেও নেই।
তাই সন্তান হত্যা করা একজন মানুষ হত্যা করার অপরাধ তো বটেই, সাথে সাথে আল্লাহর এ বিশাল নেআমাতকে প্রত্যাখ্যান করার অপরাধে অপরাধী হবে।
বর্তমান পাশ্চাত্যের ভোগবাদী সমাজে পরিবার গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। আমাদের সমাজেও এর হাওয়া লেগেছে। ইসলামী সমাজে পরিবারের গুরুত্ব ও ভূমিকাকে কোন অবস্থাতে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। যা কিছু পারিবারিক শৃংখলার বিরুদ্ধে যায়, ইসলাম অবশ্যই তার বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান।
মানুষ একটি ভুল দৃষ্টিভংগির উপর ভিত্তি করে সন্তান হত্যা করত। সেটি হল দারিদ্রতা বা দারিদ্রতার ভয়। পিতা মনে করত এ সন্তানের খাবার দাবারে দায়িত্বটা আমার নিজের। আমি কিভাবে এ দায়িত্ব পালন করব? কিন’ তার এ ধারণাটা মোটেই ঠিক নয়। প্রতিটি প্রাণীর রিযক তথা জীবনোপকরণের দায়িত্ব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের। তিনি বলেনঃ

وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا.
“ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই।”
সূরা হুদ, আয়াত ৬
তিনি আরো বলেনঃ
وَكَأَيِّنْ مِنْ دَابَّةٍ لَا تَحْمِلُ رِزْقَهَا اللَّهُ يَرْزُقُهَا وَإِيَّاكُمْ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“এমন কত জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য বহন করে না। আল্লাহই রিয্‌ক দান করেন তাদেরকে ও তোমাদেরকেও, এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” সূরা আনকাবুত, আয়াত ৬০

এখন প্রশ্ন থেকে যায় যে, সন্তান হত্যা করা হারাম। কিন্তু সন্তান যেন জন্ম গ্রহণ করতে না পারে এ জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করলে কি হারামের মধ্যে গন্য হবে? সেটা কি আল্লাহর এ নিষেধের আওতায় পড়বে?
দারিদ্রতার ভয়ে নয়, বরং অন্য কোন কারণে যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়, তবে তা জায়েয বলে অনেক আলেম মতামত দিয়েছেন। কিন’ যদি দারিদ্রতার কারণে কিংবা দারিদ্রতার ভয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা যে হারাম হবে, এতে কারো দ্বিমত নেই। এ আয়াতও তার প্রমাণ। আর আমাদের সমাজে দারিদ্রতার ভয় দেখিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করার জন্য মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয় এবং প্রচার চালানো হয়। এটা জায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে দারিদ্রতার ভয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা পৃথিবীতে চলে আসা একটি জীবন- সন্তান হত্যা করার মত সমান অপরাধ যে নয়, তাতে সন্দেহ নেই। তবে তা যে অপরাধ, এটা নি:সন্দেহে বলা যায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এ অসীয়তের আলোকে।

 

  • চতুর্থ অসিয়তঃ অশ্লীলতা পরিহার করা

وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ.
“প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে অশ্লীল কাজের কাছে যাবে না”
এটি এমন একটি অসিয়ত যার উপর নির্ভর করে মুসলিম পরিবার ও সমাজের পবিত্রতা, শৃংখলা, সুখ, পারস্পারিক আস্থা ও ভালোবাসা। এটি যেমন বাহ্যিকভাবে ব্যক্তি ও পরিবারকে পবিত্র রাখে তেমনি আধ্যাত্নিকভাবে তাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখে।
সকল প্রকার অশ্লীলতা-বেহায়াপনাই অপরাধ। এ আয়াতে অশ্লীল কাজ বলতে জেনা-ব্যভিচার, নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশাকে বুঝানো হয়েছে। এটি গোপনে করা যেমন অপরাধ তেমনি প্রকাশ্যে করা বা করে প্রকাশ করা আরো বড় অপরাধ।
ব্যভিচার সম্পর্কে আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেনঃ

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
“আর ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।” সূরা আল- ইসরা, আয়াত ৩২

শুধু যেনা-ব্যভিচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়নি, বরং তার ধারে-কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। যা কছিু তার দিকে আহবান করে, তার দিকে যেতে উৎসাহ যোগায় তার সবগুলোই নিষিদ্ধ।
এমন অনেক মানুষ আছেন যারা এ সকল অশ্লীলতা থেকে পুত-পবিত্র থাকেন। কিন’ অন্য লোকেরা এ গুলো করলে তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন না। মনে মনে ভাবেন, এরা করে করুক। তাতে আমার কি আসে যায়। এগুলো তাদের করা ছাড়া উপায় নেই। এ বয়সে বা এ সমাজে এগুলোর প্রয়োজন আছে, ইত্যাদি মানসিকতা পোষণ করেন। এ সকল মানুষদেরকে আল্লাহর এ বাণীটি শুনিয়ে দেয়া যায়ঃ
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آَمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
“যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাসি-। আর আল্লাহ জানেন তোমরা জান না।” সূরা আন- নূর, আয়াত ১৯

 

পরবর্তী পর্বঃ ২ >