শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৪ (পুনর্জম্ম ও তুকাইয়া)

রাজাআত বা পুর্নজন্ম সম্পর্কে রাফেযীদের বিশ্বাস

রাফেযীরাই সর্ব প্রথম রাজা‘আতের বিষয়টি আবিস্কার করে। আল-মুফীদ বলেন, “বহু মৃত ব্যক্তির রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসার ব্যাপারে ইমামীগণ ঐক্যমত হয়েছেন।”

আর এটি হচ্ছে এই যে, তাদের সর্বশেষ ইমাম শেষ যামানায় পুর্নজন্ম নিয়ে ফিরে আসবে। সিরদাব নামক স্থান হতে বের হবে এবং রাজনৈতিকদের মধ্যে যারা তাদের বিরোধী থাকবে তাদের সকলকে হত্যা করবে। যুগ যুগ ধরে তাদের যে অধিকার বিভিন্ন দল হরণ করে আসছিল, শিয়াদের নিকট তিনি তা ফিরিয়ে দিবেন।

সৈয়দ মুরতাযা আল-মাসায়েলুন নাসেরিয়াহ্‌” গ্রন্থে বলেন, নিশ্চয় আবু বকর রা. ও ওমর রা.-কে তাদের বারোতম ইমাম, ইমাম মাহদীর যামানায় একটি গাছে ফাঁসি দেবে। ফাঁসিতে ঝুলানোর পূর্বে গাছটি থাকবে কাঁচা। ফাঁসিতে ঝুলানোর পর গাছটি শুকিয়ে যাবে।

আল-মাজলেসী “হাক্কুল ইয়াক্বীন” গ্রন্থে মুহাম্মাদ আল-বাকের এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “যখন ইমাম মাহদী আত্ম প্রকাশ করবেন তখন তিনি উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রা.-কে পূনরায় জীবিত করবেন এবং তার উপর হদ্দ (ব্যভিচারের শাস্তি) কায়েম করবেন।”

এভাবেই তাদের মধ্যে পুর্নজন্ম রহস্য বিস্তার লাভ করলে, তারা বলতে শুরু করে যে, সমস্ত শিয়া ও তাদের ইমাম ও ইমাম বিরোধিরা রাজা‘আত তথা পুর্নজন্ম নিবে। মূলত এরূপ ভ্রান্ত বিশ্বাসীরা মানুষের অন্তরে হিংসার বিষ ছড়াচ্ছে। এটা সাবায়ী গ্রুপের পরকাল আস্বীকার করার একটি অপকৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে শী’আরা তাদের বিরোধিদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই রাজা‘আতের ন্যায় ভ্রান্ত বিশ্বাসের চালু করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, কারা শিয়াদের বিরোধী?

নিন্মোক্ত বর্ণনা দ্বারা আহলে সুন্নাতের উপর রাফেযীদের হিংসা-বিদ্বেষ ও ইহুদ ও নাছারাদের সাথে তাদের বন্ধুত্বের ভাব স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। আল-মাজলেসী “বেহারুল আনওয়ার” গ্রন্থে উল্লেখ করেন “আবু আব্দুল্লাহ্‌ বলেন, হে আবু মুহাম্মাদ! আমি দেখছি যে, ইমাম মাহদী তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সাহ্‌লাহ্‌ মসজিদে অবতরণ করবেন …।

অতএব সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধদের (ইহুদ ও খৃষ্টানদের) বিষয়টি তার নিকট কিরূপ হবে? তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে তারা জিযয়া দিয়েছে, সেভাবে তাকেও তারা জিযয়া দেবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, অতএব আপনাদের শত্রু নাসেবীদের (আহলে সুন্নাতের) অবস্থা কি হবে? তিনি বলেন, যে আমাদের দেশে আমাদের নীতির ব্যতিক্রম করবে তাদের কোন অংশই থাকবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা‘আলা আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আগমনের সময় তাদের রক্ত আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে যা আমাদের ও তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ যেন প্রবঞ্চিত না হয়। যখন আমাদের কায়েম তথা ইমাম মাহদী আসবেন তখন তিনি আল্লাহ্‌, তাঁর রাসূল ও আমাদের সকলের পক্ষ হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।

ভেবে দেখুন হে মুসলিম জাতি! শিয়াদের মাহদী কিভাবে ইহুদী ও নাছারাদের নিকট হতে জিযয়া তথা কর আদায় করবে। আর তাদের নীতি বিরোধী তথা আহলে সুন্নাতের রক্ত বৈধ ঘোষণা করবে। কেউ হয়তবা বলতে পারে যে, এটা তাদের জন্য যারা আহলে বায়তের সাথে হিংসা করে। আর প্রকৃতপক্ষে আহলে সুন্নাতেরা কখনই আহলে বায়তের প্রতি হিংসার মনোভাব পোষণ করে না। অতএব রাফেযীরা মাহদীর পক্ষ হতে যে শাস্তির ঘোষণা দেয়, তা মূলত আহলে সুন্নতের জন্য নয়। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য মূলত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতই। নাসেবী বলতে রাফেযীরা এদেরকেই বুঝায়। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে হুসাইন আলে উছফুর আল দারাজী আল বাহরাইনী কৃত “আল মাহাসিনুন নাফসানিয়াহ্‌” ও ইউসূফ আল বাহরানীর “আশ্‌শিহাবুছ ছাকেব ফী বায়ানি মা‘নান্নাসেব” নামক বইটি পড়ুন। আল্লাহ তাআলা বলেন :

إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ ۚ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

“নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই। তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকট। অতপর তিনি তাদের খবর দেবেন যা তারা করত।” (সূরা আল আনআম : ১৫৯)

তুকইয়া সম্পর্কে রাফেযী শিয়াদের বিশ্বাস

আধুনিক যুগের একজন রাফেযী আলেম ‘তুকইয়া’-র সংজ্ঞা বর্ণনা করেন : “তোমার জীবন থেকে অথবা মন থেকে কষ্ট দুর করার উদ্দেশ্যে অথবা তোমার কারামত রক্ষার উদ্দেশ্যে তোমার অন্তরে যে বিশ্বাস আছে তার বিপরীত কিছু বলা অথবা করাই ‘তুকইয়া।’

তাদের আরো ধারণা, মুনাফিকদের সরদার আব্দুল্লাহ্‌ বিন উবাই বিন সালুলের মৃত্যুর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুরূপ তুকইয়া করেছিলেন। তিনি যখন তার সালাতে জানাযা আদায় করতে আসেন, তখন ওমর রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্‌ কি আপনাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেননি? অর্থাৎ এই মুনাফিকের কবরে দাঁড়াতে, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তোমার ধংস হোক, তুমি এটা কি বলছো? আমি তো আসলে বলেছি যে, হে আল্লাহ্‌! তুমি তার পেট আগুন দ্বারা পূর্ণ করো। তার কবর আগুন দ্বারা পূর্ণ করো এবং তাকে জাহান্নামের আগুন পর্যন্ত পৌঁছে দাও।”

খেয়াল করে দেখুন হে মুসলিম জাতি, কিভাবে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর মিথ্যারোপ করে। এটা কি বিবেক সিদ্ধ কথা : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার একজন সাহাবীর ভয়ে তুকইয়ার আশ্রয় নিয়ে বলবেন যে, আমি তার জন্য দোয়া করিনি, তার উপর লা‘নত করেছি ?!

আল-কুলাইনী “উছুলুল কাফী” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “আবু আব্দুল্লাহ্‌ বলেন, হে আবু ওমর, নিশ্চয় দীনের দশ ভাগের নয় ভাগই নিহিত রয়েছে তুকইয়া‘র মধ্যে, যার মধ্যে তুকইয়া নেই তার ভেতর দীন নেই, দু’টি বিষয় অর্থাৎ নাবিয ও মোজার উপর মাসাহ্‌ ছাড়া সকল বিষয়েই তুকইয়া রয়েছে।”

কুলাইনী আবু আব্দুল্লাহর বরাত দিয়ে আরো উল্লেখ করেন, তিনি বলেন, “তোমরা দীনের ব্যাপারে ভয় করো অর্থাৎ সতর্ক থাকো এবং তুকইয়া দ্বারা দীনকে হেফাযত করো, কেননা যার মধ্যে তুকইয়া নেই তার ভেতর ঈমানই নেই। এই তুকইয়া‘র অজুহাতে রাফেযীদের নিকট গায়রুলাহ‘র নামে হলফ করাও বৈধ হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ।

আল হুররিল আমেলী “ওয়াসায়েলুশ্‌ শিয়াহ্‌” গ্রন্থে ইবনে বুকাইর হতে, তিনি যুরারাহ্‌ হতে তিনি আবু জা‘ফার আস-সাদেক হতে বর্ণনা করেন, যুরারাহ্‌ বলেন, আমি জা‘ফারকে বললাম, নিশ্চয় আমরা যখন তাদের তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নিকট থেকে অতিক্রম করি, তখন তারা আমাদের সম্পদের উপর হলফ তলব করে অথচ আমরা ঐ সম্পদের যাকাত আদায় করেছি। অতঃপর জা‘ফার বলেন, হে যুরারাহ্‌! যদি সম্পদের ভয় করো তাহলে তারা যেভাবে চায় সেভাবেই হলফ করো। আমি বললাম, আপনার জন্য জীবন কুরবান হোক, তালাক ও দাস মুক্তির কসম করব? তিনি বলেন, তারা যা চায় তাই করো।

সামা‘আহ্‌ হতে বর্ণিত, তিনি আবু আব্দুল্লাহ্‌ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জবরদস্তির কারণে বাধ্য হয়ে কেউ যদি তুকইয়ার আশ্রয়ে হলফ করে তাহলে তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না।”

রাফেযীদের নিকট তুকইয়া ওয়াজিব, বরং তুকইয়া ব্যতীত তাদের মাযহাব টিকতেই পারে না। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ব্যাপারেই তারা তুকইয়ার মূলনীতি গ্রহণ করে এবং যখনই প্রয়োজন বোধ করে তখনই ঐ মূলনীতির উপর আমল করে। অতএব হে মুসলিম জাতি, রাফেযীদের এরূপ জঘন্য আক্বীদা থেকে সাবধান থাকুন।

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ♦ النساء: ١٤٥

“নিশ্চয় মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিু স্তরে। তুমি তাদের জন্য কক্ষনো কোন সাহায্যকারী পাবে না।” (সুরা আন নিসা: ১৪৫)

পুর্ববর্তী অধ্যায়ঃ

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৩ (ইয়াহুদি ও বারা ইমাম)

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৫ (কবর পুজা ও আহলে সুন্নাহ)

Author: Hafiz

The Mankind Future !!!