নবী করীম [সাঃ]এর নামায আদায়ের পদ্ধতি পর্বঃ ১

নবী করীম [সাঃ]এর স্বলাত আদায়ের পদ্ধতি

স্বলাত এর সংক্ষিপ্ত সচিত্র গাইড এখানে ক্লিক করুন

যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্ল্লাহর জন্য এবং দরূদ ও ছালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদ [সাঃ], তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবাগণের প্রতি।
প্রত্যেক মুসলমান নারী ও পুরুষের উদ্দেশ্যে নবী করীম [সাঃ] এর স্বলাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করতে ইচ্ছা করছি। এর উদ্দেশ্য হলো যেন, তাঁরা যেন প্রত্যেকেই স্বলাত পড়ার বিষয়ে নবী করীম [সাঃ] এর অনুসরণ করতে পারেন। এ সম্পর্কে নবী করীম [সাঃ] এরশাদ করেন:

( صَلُّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّيْ ) رواه البخاري
অর্থঃ“তোমরা সেভাবে স্বলাত আদায় কর, যে ভাবে আমাকে স্বলাত আদায় করতে দেখ।” বুখারী

পাঠকের উদ্দেশ্যে (নিম্নে) তা বর্ণনা করা হলোঃ

১.সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে ওযু করবেঃ আল্ল্লাহ পাক কুরআনে যে ভাবে ওযু করার নির্দেশ প্রদান করেছেন সে ভাবে ওযু করাই হলো পরিপূর্ণ ওযু। আল্ল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা এ সম্পর্কে এরশাদ করেনঃ

]يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوْهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ [ (৬) المائدة
অর্থঃ“ হে মুমিনগণ! যখন তোমরা স্বলাতের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও তখন (স্বলাতের পূর্বে) তোমাদের মুখমন্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মসেহ কর এবং পা গুলোকে টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল।” [সূরা মায়েদাহ – ৬]

এবং নবী করীম [সাঃ] এরশাদ হলোঃ
( لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغِيْرِ طَهُوْرٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُوْلٍ (
অর্থঃ“ পবিত্রতা ব্যতীত স্বলাত কবুল করা হয় না। আর খিয়ানতকারীর দান গ্রহণ করা হয় না।” ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন্ত
নবী করীম [সাঃ] এক ব্যক্তিকে স্বলাতে ভুল করার কারণে বললেনঃ

( ِإذَا قُمْتَ إِلىَ الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوْءَ )
অর্থঃ“তুমি যখন স্বলাত দাড়াবে (স্বলাতের পূর্বে) উত্তম রূপে ওযু করবে।”

২. মুসল্লি বা স্বলাতী ব্যক্তি কিবলামুখী হবেঃ সে যে কোন জায়গায় থাক না কেন,তার সমস্ত শরীর ও মনকে যে ফরজ বা নফল স্বলাত আদায়ের ইচ্ছা করছে অন্তরকে সে

স্বলাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে। এবং মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করবে না, কারণ মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করা শরীয়ত সম্মত নয় বরং বা তা বিদ্‌আত। কারণ নাবী কারীম [সাঃ] এবং তাঁর সাহাবাগণ কেউ মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করেন নেই। সুন্নত সম্মত হলো যে, স্বলাতী তিনি ইমাম হয়ে স্বলাত আদায় করুন অথবা একা, তার সামনে সুতরাহ (স্বলাতের সময় সামনে স্থাপিত সীমাচিহ্ন) রেখে স্বলাত পড়বেন। কারণ রাসূলুল্লাহ [সাঃ] স্বলাতের সামনে সুতরাহ ব্যবহার করে স্বলাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিবলামুখী হওয়া স্বলাতের শর্ত।
৩. আল্ল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরীমাহ দিয়ে স্বলাতে দাড়াবে এবং দৃষ্টিকে সিজদার স্থানে নিবদ্ধ রাখবে।
৪.তাকবীরে তাহরীমার সময় উভয় হাতকে কাঁধ অথবা কানের লতির বরাবর উঠাবে।
৫.এরপর ডান হাতের তালুকে তার বাম হাতের উপরে কবব্জি অথবা বাহু ধারণ করে উভয় হাত রাখবে। বুকের উপর হাত রাখা সম্পর্কে সাহাবী অয়েল ইবনে হুজর এবং কাবীসাহ ইবনে হুলব আততায়ী [রাযিয়াল্লাহু আনহুমা] তিনি তার পিতা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬. দু’আ ইস্তেফতাহ [সানা] পাঠ করা সুন্নাত। দুআ ইস্তেফতাহ নিম্নরূপঃ

(اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَاياَيَ كَمَا بَاعَدتَّ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ. اَللَّهُمَّ نَقِّنِيْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ. اَللَّهُمَّ اغْسِلْنِيْ مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرْدِ )
উচ্চারণঃ আল্ল্লাহুম্মা বা-ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়ায়া, কামা বা’আদ্‌তা বাইনাল মাশরিক্বী ওয়াল মাগরিবি, আল্ল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়ায়া কামা ইউনাক্কাছ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ্‌দানাসি, আলা্ল্লহুম্মাগছিলনী মিন খাতাইয়ায়া বিল মায়ি, ওয়াছ্‌ছালজি, ওয়াল বারাদি।
[অর্থঃ“হে আল্ল্লাহ ! তুমি আমাকে আমার পাপগুলি থেকে এত দূরে রাখ যেমনঃ পূর্ব ও পশ্চিমকে পরস্পরকে পরস্পর থেকে দূরে রেখেছ। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে এমন ভাবে পরিষ্কার করে দাও, যেমনঃ সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে (পবিত্র করার জন্য) পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।”] বুখারী ও মুসলিম

অন্য এক হাদীসে আবু হুরাইরাহ [রাঃ] থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী কারীম [সাঃ] হতে বর্ণনা করেন যে, যদি কেউ চায় তা’হলে পূর্বের দুআর পরিবর্তে নিচের দুআটিও পাঠ করতে পারে। কারণ নবী করীম [সাঃ] থেকে তা পাঠ করার প্রমাণ রয়েছে।

(( سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ ))
উচ্চারণঃ সুবহানাকা আল্ল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাস্‌মুকা, ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।
অর্থঃ“ হে আল্ল্লাহ! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে,আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা’বূদ নেই।”

পূর্বের দুআ দুটি ছাড়াও যদি নবী [সাঃ] থেকে অন্যান্য যে সমস্ত দুআয়ে ইস্তেফতাহ বা সানা বলা প্রমাণিত তা পাঠ করে তবে কোন বাধা নেই। কিন্তু উত্তম হলো যে কখনও এটি আবার কখনও অন্যটি পড়া। কারণ এর মাধ্যমে রাসূল [সাঃ] এর পরিপূর্ণ অনুসরণ প্রতিফলিত হবে।
এরপর বলবেঃ

আঊযু বিল্ল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম, বিসমিল্ল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থঃ“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্ল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে । কেননা রাসূলল্ল্লাহ [সাঃ] বলেছেনঃ

( لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ )
অর্থঃ“ যে ব্যক্তি (স্বলাতে) সূরা ফতিহা পাঠ করে না তার স্বলাত হয় না।” [বুখারী ও মুসলিম]

সূরা ফতিহা পাঠ শেষে জাহরী স্বলাতে (যেমনঃ মাগরিব, এশা ও ফজর) উচ্চস্বরে আওয়াজ করে এবং ছিররি স্বলাতে (যেমনঃ জোহর ও আসর) মনে মনে আ-মীন বলবে। এরপর পবিত্র কুরআন থেকে যে পরিমাণ সহজসাধ্য হয় পাঠ করবে। উত্তম হলো যে, জোহর, আসর এবং এশার স্বলাতে কুরআন মজিদের আওছাতে মুফাচ্ছাল [সূরা নাস থেকে সূরা যুহা পর্যন্ত এবং ফজরে তেওয়াল [সূরা কাফ থেকে সূরা নাবা পর্যন্ত] আর মাগরিবে কিসার [সূরা যুহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত] থেকে পাঠ করা। মাগরিব স্বলাতে কখনও তেওয়াল অথবা আওসাত থেকে পাঠ করবে। এভাবে পাঠ করা নবী কারীম [সাঃ] থেকে প্রমাণিত রয়েছে। আসরের কিরআতকে জোহর এর কিরআত থেকে হালকা করা জায়েয আছে।
৭.উভয় হাত দু’কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠিয়ে আল্ল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। মাথাকে পিঠ বরাবর রাখবে এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলিকে খোলাবস্থায় উভয় হাটুর উপরে রাখবে। রুকুতে ইতমিনান বা সি’রতা অবলম্বন করবে। এরপর বলবেঃ “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম”। অর্থঃ-‘‘আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।”
দুআটি তিন বা তার অধিক পড়া ভাল এবং এর সাথে নিচেরর দুআটিও পাঠ করা মুস্তাহাব-জায়েয।

( سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ )
উচ্চারণঃ সুবহানাকা আল্ল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্ল্লাহুম্মাগ্‌ফিরলি।
অর্থঃ“হে আল্ল্লাহ ! আমাদের প্রতিপালক, তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমার প্রশংসা সহকারে। হে আল্ল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা কর।”

৮.উভয় হাত কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠিয়ে “সামি’আল্ল্লাহু লিমান হামিদাহ”
বলে রুকু থেকে মাথা উঠাবে। ইমাম বা একাকী উভয়ই দু’আটি পাঠ করবে। রুকু থেকে খাড়া হয়ে বলবেঃ

( رَبَّنَاوَلَكَ الْحَمْدُ،حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا ِفيْهِ؛ مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَ مِلْءَ الْأَرْضِ؛ وَمِلَءَ ماَ بَيْنَهُمَا ؛ وَمِلْءَ ماَ شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ )
উচ্চারণঃ রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্‌, হামদান কাছিরান তাইয়্যেবাম মুবারাকান ফি-হ, মিলয়াস সামাওয়াতি ওয়া মিলয়াল আরজি, ওয়া মিলয়া মা বায়নাহুমা,ওয়া মিলয়া মা শি’তা মিন শাইয়িন বা’দু।
অর্থঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। তোমার প্রশংসা অসংখ্য, উত্তম ও বরকতময়,যা আকাশ ভর্তি করে দেয়, যা পৃথিবী পূর্ণ করে দেয়, উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এ’গুলি ছাড়া তুমি অন্য যা কিছু চাও তাও পূর্ণ করে দেয়।”

পূর্বের দু’আটির পরে যদি নিুের দু’আটিও পাঠ করা হয় তাহলে ভাল।
( أَهْلُ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ؛ أَحَقُّ مَا قاَلَ الْعَبْدُ؛ وَكُلُّناَلَكَ عَبْدٌ؛ اَللَّهُمَّ لاَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ )
উচ্চারণঃ আহলুস্‌সানায়ি ওয়াল মাজদি,আহাক্কু মা কালাল আবদু’ ওয়া কুল্লুনা লাকা আবদুন। আল্ল্লাহুম্মা ! লা- মানি‘আ লিমা আ‘তাইতা ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল্‌জাদ্দু।
অর্থঃ “হে আল্ল্লাহ! তুমিই প্রশংসা ও মর্যাদার হক্কদার, বান্দাহ যা বলে তার চেয়েও তুমি অধিকতর হকদার। এবং আমরা সকলে তোমারই বান্দাহ। হে আল্ল্লাহ! তুমি যা দান করেছো, তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা নিষিদ্ধ করেছো তা প্রদানকারীও কেউ নেই। এবং কোন সম্মানী ব্যক্তি তার উচ্চ মর্যাদা দ্বারা তোমার দরবারে উপকৃত হতে পারবে না।”
কোন কোন সহীহ হাদীসে নাবী কারীম [সাঃ] থেকে এই [পূর্বের] দু’আটি পড়া প্রমাণিত আছে। আর মুকতাদী হলে রুকু থেকে উঠার সময় “ রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্‌দ–”দুআটি শেষ পর্যন্ত পড়বে। রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর ইমাম ও মুকতাদী সকলের জন্য দাড়ানো অবস্থায় যে ভাবে উভয় হাত বুকের উপর ছিল সে ভাবে বুকের উপর উভয় হাত রাখা মুস্তাহাব। এ বিষয়ে নাবী কারীম [সাঃ] থেকে অয়েল ইবনে হুজর এবং সাহল বিন সা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণিত।
৯.আল্লাহু আকবার বলে । যদি কোন প্রকার কষ্ট না হয় তা হলে দুই হাটু উভয় হাতের আগে (মাটিতে রেখে) সিজদায় যাবে আর কষ্ট হলে উভয় হাত হাটুর পূর্বে (মাটিতে) রাখা যাবে। হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলি ক্বিবলামুখী থাকবে। এবং হাতের আঙ্গুলগুলি মিলিত ও প্রসারিত হয়ে থাকবে। সিজদাহ হবে সাতটি অঙ্গের উপর। অঙ্গগুলো হলোঃ নাক সহ কপাল, উভয় হাতুলী, উভয় হাটু এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলের ভিতরের অংশ। সিজদায় গিয়ে বলবেঃ

“সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা”(অর্থঃ আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের [আল্লাহর] প্রশংসা করছি।)

তিন বা তার অধিকবার তা পুনরাবৃত্তি করবে। এর সাথে নিুের দু’আটি পড়া মুস্তাহাব।
( سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ )
উচ্চারণঃ সুবহানাকা আল্ল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা অ্লাল্লাহুম্মাগফিরলি।
[অর্থঃ“হে আল্ল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক,তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমার প্রশংসা সহকারে। হে আল্ল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা কর।”]

[সিজদায়] বেশি বেশি দু’আ করা মুস্তাহাব। কেননা নাবী কারীম [সাঃ] এরশাদ করেছেনঃ
( فأما الركوع فعظموا فيه الرب وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء فقمن أن يستجاب )
অর্থঃ“তোমরা রুকু অবস্থায় মহান প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত বর্ণনা কর এবং সিজদারত অবস্থায় অধিক দুআ পড়ার চেষ্টা কর, কেননা তোমাদের দুআ’ কবুল হওয়ার উপযোগী।” মুসলিম

রাসূলুল্ল্লাহ [সাঃ] আরও এরশাদ করেনঃ

( أَقْرَبُ مَا يَكُوْنُ الْعَبْدُ مِن رَّبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوْا الدُّعَاءَ. )
অর্থঃ“বান্দাহ সিজদাহ অবস্থায় তার প্রতিপালকের অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। অতএব এই অবস্থায় তোমরা বেশি বেশি দুআ করবে।” মুসলিম

ফরজ অথবা নফল উভয় স্বলাতে মুসলিম [স্বলাতী] সিজদার মধ্যে তার নিজের এবং মুসলমানদের জন্য আল্ল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য দুআ করবে। সিজদার সময় উভয় বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে, পেটকে উভয় উরূ এবং উভয় উরূ পিন্ডলী থেকে আলাদা রাখবে। এবং উভয় বাহু [কনুই] মাটি থেকে উপরে রাখবে। (কেননা নাবী কারীম [সাঃ] এরকম করতে নিষেধ করেছেন।)
নাবী কারীম [সাঃ] এরশাদ করেছেনঃ
( اِعْتَدِلُوْا فِي السُّجُوْدِ وَلاَيبسِطُ أَحْدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ إِنْبِسَاطَ الْكَلْبِ ) متفق عليه
অর্থঃ“তোমরা সিজদায় বরাবর সোজা থাকবে। তোমাদের কেউ যেন তোমাদের উভয় হাতকে কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে প্রসারিত না রাখে।” বুখারী ও মুসলিম

স্বলাত সম্পাদনের পরবর্তী পর্বঃ ২>>