নবী করীম [সাঃ]এর নামায আদায়ের পদ্ধতি পর্বঃ ২

নবী করীম [সাঃ]এর স্বলাত আদায়ের পদ্ধতি

১০. আল্ল্লাহু আকবার বলে [সিজদাহ থেকে] মাথা উঠাবে। বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখবে। দু’হাত তার উভয় রান [ঊরু] ও হাঁটুর উপর রাখবে। এবং নিচের দু’আটি বলবে।

( رَبِّ اغْفِرْلِيْ؛ رَبِّ اغْفِرْلِيْ؛ رَبِّ اغْفِرْلِيْ؛ اَللَّهُمَ اغْفِرْلِيْ، وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَعَافِنِيْ وَاجْبُرْنِيْ )
উচ্চারণঃ রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী, আল্লাহুমাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী ওয়া আ’ফিনী ওয়াজবুরনী।

অর্থঃ“হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হিদায়েত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে সুস্থতা দান কর এবং আমার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ কর।”

এই বৈঠকে ধীর স্থির থাকবে যাতে প্রতিটি হাড়ের জোর তার নিজস্ব স্থানে ফিরে যেতে পারে রুকুর পরের ন্যায় সি’র দাঁড়ানোর মতো। কেননা নাবী কারীম [সাঃ] রুকুর পরে ও দু’সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে সি’রতা অবলম্বন করতেন।
১১.আল্ল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় সিজদাহ করবে। এবং দ্বিতীয় সিজদায় তাই করবে প্রথম সিজদায় যা করেছিল।
১২. সিজদাহ থেকে আল্ল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠাবে। ক্ষণিকের জন্য বসবে, যে ভাবে উভয় সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে বসেছিল। এ ধরনের পদ্ধতিতে বসাকে “জলসায়ে ইসতেরাহা” বা আরামের বৈঠক বলা হয়। আলেমদের দু’টি মতের মধ্যে অধিক সহীহ মতানুসারে এ ধরনের বসা মুস্তাহাব এবং তা ছেড়ে দিলে কোন দোষ নেই।“জলসায়ে ইস্‌তেরাহা”এ পড়ার জন্য [নির্দিষ্ট] কোন দু’আ নেই।
অত:পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য যদি সহজ হয় তাহলে উভয় হাঁটুতে ভর করে উঠে দাঁড়াবে। তার প্রতি কষ্ট হলে উভয় হাত মাটিতে ভর করে দাঁড়াবে। এরপর [প্রথমে] সূরাহ ফাতিহা এবং কুরআনের অন্য কোন সহজ সূরাহ পড়বে। প্রথম রাকআতে যেভাবে করেছে ঠিক সে ভাবেই দ্বিতীয় রাকআতেও করবে।
মুকতাদী তার ইমামের পূর্বে কোন কাজ করা জায়েয নেই। কারণ নাবী কারীম [সাঃ] তাঁর উম্মতকে এ রকম করা থেকে সতর্ক করেছেন। ইমামের সাথে সাথে (একই সঙ্গে) করা মাকরুহ। সুন্নাত হলো যে, মুকতাদীর প্রতিটি কাজ কোন শিতিলতা না করে ইমামের আওয়াজ শেষ হওয়ার সাথে হবে। এ সম্পর্কে নবী করীম [সাঃ] এরশাদ করেন।

( إنما جعل الإمام ليؤتم به فلا تختلفوا عليه؛ فإذا كبر فكبروا؛ وإذا ركع فاركعوا؛ وإذا قال سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فقولوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ؛ وإذا سجد فاسجدوا ) الحديث – متفق عليه
অর্র্থঃ“ইমাম এই জন্যই নির্ধারণ করা হয়,যাতে তাকে অনুসরণ করা হয়, তার প্রতি তোমরা ইখতেলাফ করবে না। সুতরাং ইমাম যখন আল্ল্লাহু আকবার বলবে তোমরাও আল্ল্লাহু আকবার বলবে এবং যখন তিনি রুকু করবেন তোমরাও রুকু করবে এবং তিনি যখন “সামি’আল্ল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবেন তখন তোমরা “রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্‌দ”বলবে আর ইমাম যখন সিজদাহ করবেন তোমরাও সিজদাহ করবে।” বুখারী ও মুসলিম

১৩. স্বলাত যদি দু’রাক্‌আত বিশিষ্ট হয় যেমনঃ ফজর, জুমআ ও ঈদের স্বলাত, তা’হলে দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে মাথা উঠিয়ে ডান পা খাড়া করে বাম পায়ের উপর বসবে। ডান হাত ডান ঊরুর উপর রেখে শাহাদাত বা তর্জনী আঙ্গুলি ছাড়া সমস্ত আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে দুআ ও আল্লাহর নাম উল্লেখ করার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা নাড়িয়ে তাওহীদের ইশারাহ করবে। যদি ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা বন্ধ রেখে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমাঙ্গুলির সাথে মিলিয়ে গোলাকার করে শাহাদাত বা তর্জনী দ্বারা ইশারা করে তবে তা ভাল। কারণ নাবী কারীম [সাঃ] থেকে দু’ধরনের বর্ণনাই প্রমাণিত। উত্তম হলো যে, কখনও এভাবে এবং কখনও ওভাবে করা। এবং বাম হাত বাম ঊরু ও হাঁটুর উপর রাখবে। অত:পর এই বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যতু) পড়বে।

তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়্যতুঃ
(( اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ))
উচ্চারণঃ“আত্তাহিয়্যাতু লিল্ল্লাহি ওয়াস্‌সালাওয়াতু ওয়াত্‌ তাইয়্যিবাতু আছ্‌ছালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্ল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আছ্‌ছালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্ল্লাহিছ ছালিহীন। আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্ল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান্‌ আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
[অর্থঃ“যাবতীয় ইবাদত, মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক সমস্তই আল্ল্লাহর জন্য। হে নাবী ! আপনার উপর আল্ল্লাহর শানি-, রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্ল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ [সাঃ] আল্ল্লাহর বান্দাহ ও তাঁর রাসূল।”]

অতঃপর [দরূদ] বলবেঃ
( اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ, وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِْيدٌ مَجِيْدٌ )
উচ্চারণ:“ আল্ল্লাহুম্মা সাল্ল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্ল্লাইতা আলা ইব্‌রা-হীমা ওয়া আলা আ-লি ইব্‌রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। ওয়া বা-রিক আলা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রাকতা আলা ইব্‌রা-হীমা ওয়া আলা আলি-ইব্‌রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”
[অর্থঃ“হে আল্ল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্ল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ কর। যেমনঃ তুমি ইব্‌রাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত। এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর বর্কত নাযিল কর, যেমনঃ তুমি ইব্‌রাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর নাযিল করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও গৌরাবান্বিত।”

অতঃপর নিচের দু‘আটি পড়বেঃ-

এরপর আল্ল্লাহর কাছে চারটি বস’ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।
( اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ومِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ومِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ )
উচ্চারণঃ আল্লা্লহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া মিন ফিতনাতিল্‌ মাহইয়া ওয়ালমামাতি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।
অর্থঃ“আমি আল্ল্লাহর আশ্রয় কামনা করি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের শাসি- থেকে, জীবন ও মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফেত্‌না থেকে।”

এরপর দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল কামনা করে নিজের পছন্দমত যে কোন দু’আ করবে। যদি তার পিতা-মাতা ও অন্যান্য মুসলমানের জন্য দু’আ করে তাতে কোন দোষ নেই। দু’আ করার বিষয়ে ফরজ অথবা নফল স্বলাত কোনই পার্থক্য নেই। কারণ নাবী কারীম [সাঃ] এর কথায় ব্যাপকতা রয়েছে, ইবনে মাসউদের হাদীসে যখন তিনি তাশাহহুদ শিক্ষা দিচ্ছিলেন তখন বলেছিলেন :
( ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعاَءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُوْا )
অর্থঃ“অত:পর তার কাছে যে দু’আ পছন্দনীয়, তা নির্বাচন করে দু’আ করবে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে,
( ثُمَّ يَتَخَيَّرْ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ )
অর্থঃ“ অতঃপর যা ইচ্ছা চেয়ে দু’আ করতে পারে।”
এই দু’আগুলি যেন বান্দাহর দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত বিষয়কে শামিল করে। অতঃপর [স্বলাতী] তার ডান দিকে [তাকিয়ে] “আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্ল্লাহ” অর্থঃ-“তোমাদের উপর শানি- ও আল্ল্লাহর রহমত নাযিল হউক এবং বাম দিকে [তাকিয়ে] “আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে ছালাম ফিরাবে।
১৪. স্বলাত যদি তিন রাকআত ওয়ালা হয়, যেমনঃ মাগরিবের স্বলাত অথবা চার রাকআত ওয়ালা যেমনঃ জোহর, আছর ও এশার স্বলাত, তা’হলে পূর্বোল্লিখিত “তাশাহহুদ” পড়বে এবং এর সাথে নাবী [সাঃ] এর প্রতি দরূদও পাঠ করা যাবে। অতঃপর আল্লা্লহু আকবার বলে হাটুতে ভর করে (সোজা হয়ে) দাড়িয়ে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে পূর্বের ন্যায় বুকের উপর রাখবে। এবং শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে। যদি কেউ জোহর ও আসরের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে কখনও সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত অন্য কোন সূরা পড়ে তবে কোন বাধা নেই। কেননা এবিষয়ে আবু সাঈদ খুদরী [রাঃ] কতৃক নাবী কারীম [সাঃ] থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। প্রথম তাশাহহুদে যদি নাবী কারীম [সাঃ] এর প্রতি দরূদ পাঠ করা ছেড়ে দেয় এতেও কোন ক্ষতি নেই। কারণ প্রথম বৈঠকে দরূদ পাঠ করা ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাব।
অতঃপর মাগরিবের স্বলাতের তৃতীয় রাকআত এবং জোহর,আসর ও এশার স্বলাতের চতুর্থ রাকআতের পর তাশাহহুদ পড়বে এবং নাবী কারীম [সাঃ] এর উপর দরূদ পাঠ করবে আর আল্ল্লাহর কাছে জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, জীবিত ও মৃত্যুর ফেতনা এবং মাসীহে দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং বেশি বেশি দু’আ করবে।
স্বলাতের শেষ বৈঠকে এবং এর পরবর্তী সময়ে সুন্নাতী কিছু দু’আঃ-
আনাস [রাঃ] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নাবী কারীম [সাঃ] অধিক সময় নিচের দু’আটি পাঠ করতেন।
]رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ {
যেমন তা দুরাক্‌আত ওয়ালা স্বলাতে উল্লেখ হয়েছে। [অতঃপর শেষ বৈঠকের জন্য বসবে] তবে এ বৈঠকে তাওয়াররুক করে বসবে অর্থাৎ ডান পা খাড়া করে এবং বাম পা ডান পায়ের নিু দিয়ে বের করে রাখবে। পাছা যমীনের উপর সি’র রাখবে। এ বিষয়ে আবু হুমাইদ [রাঃ] থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এরপর সব শেষে “আস্‌সালামু আলাইকুম অরাহমাতুল্ল্লাহ” বলে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরাবে।
[সালামের পর] ৩বার “আছ্‌তাগফিরুল্ল্লাহ” পড়বে (আমি আল্ল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি) নিুের দু’আগুলি [১ বার] পড়বেঃ
( اَللَّهُمَّ أنْتَ الّسَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَاذَاالْجَلاَلَِ واْلإِكْرَامِ-لاَإِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ- اَللَّهُمَّ لاَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَاالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ- لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ؛ لاإِلَهَ إ لاَّ اللهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ؛ لَهُ النِّعْمَةُ َولَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ ؛ لاَ إِلَه اِلاَّ اللهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْكَرِهَ الْكَافِرُوْنَ )
উচ্চারণঃ আল্ল্লাহুম্মা আনতাছ ছালামু, অমিনকাছ ছালামু, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইক্‌রাম।
লা-ইলাহা ইল্ল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু, লাহুল মুল্‌কু অলাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া আলা কুল্ল্লি শাইইন ক্বাদীর। আল্ল্লাহুম্মা ! লা- মানি‘আ লিমা ‘আতাইতা ওয়ালা মু‘তিয়া
লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল্‌জাদ্দু। লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্ল্লা- বিল্লাহি, লা -ইলাহা ইল্ল্লাল্লাহু,ওয়ালা না’বুদু ইল্ল্লা ইয়্যাহু, লাহুননি’মাতু ওয়ালাহুল ফাজলু ,ওয়ালাহুস্‌ সানাউল হাসানু, লা-ইলাহা ইল্ল্লাল্লা্লহু মুখলিসীনা লাহুদদীনা ওয়ালাউ কারিহাল কাফিরূন।
অর্থঃ“হে আল্ল্লাহ! তুমি শানি- দাতা, আর তোমার কাছেই শানি-, তুমি বরকতময়, হে মর্যাদাবান এবং কল্যাণময়।“আল্ল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই , তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপরেই ক্ষমতাশালী। একমাত্র অল্ল্লাহ ছাড়া দুঃখ কষ্ট দূরকরণ এবং সম্পদ প্রদানের ক্ষমতা আর কারো নেই।
হে আল্লাহ! তুমি যা দান করেছো, তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা নিষিদ্ধ করেছো তা প্রদানকারীও কেউ নেই। এবং কোন সম্মানী ব্যক্তি তার উচ্চ মর্যাদা দ্বারা তোমার দরবারে উপকৃত হতে পারবে না।”
আল্ল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, নিয়ামত সমূহ তাঁরই,অনুগ্রহও তাঁর এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্ল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) মা’বূদ নেই । আমরা তাঁর দেয়া জীবন বিধান একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠ ভাবে পালন করি। যদিও কাফিরদের নিকট উহা অপছন্দনীয়।
“সুব্‌হানাল্ল্লাহ”৩৩ বার (আল্ল্লাহ পূত ও পবিত্র) “আল্‌হামদুলিল্লা্লহ” ৩৩ বার (সকল প্রশংসা আল্ল্লাহর)“ আল্ল্লাহু আকবার” ৩৩ বার পড়বে (আল্ল্লাহ সবচেয়ে বড়) আর একশত পূর্ণ করতে নিুের দু’আটি পড়বে।
( لاَإِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَعَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ )
উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্ল্লাল্ল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ,লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু,ওয়াহুয়া আলা কুল্ল্লি শাইইন ক্বাদীর।
[অর্থঃ “আ্লল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই , তিনি একক ,তাঁর কোন শরীক নেই। সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনিই সব কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী।”]
অতঃপর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেঃ
[[উচ্চারণঃ “আল্ল্লাহু লা- ইলাহা ইল্ল্লা হুঅ, আল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা-তা’খুযুহু ছিনাতুউ অলা নাউম, লাহু মা ফিচ্ছামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদি; মান্‌যাল্ল্লাযী ইয়াশফা’উ ইন্‌দাহু ইল্ল্লা বিইযনিহি, ইয়া’লামু মা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী,ইল্ল্লা বিমা শা -য়া ,ওয়াছিআ কুরছিইয়্যুহুচ্ছামাওয়াতি, ওয়াল আরদা, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিইয়ুল আযীম।”]]
[অর্থঃ“আল্ল্লাহ তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক,তাঁকে তন্দ্রা এবং নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না । আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে এমন
যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে ? তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত আছেন। যতটুকু তিনি ইচ্ছে করেন, ততটুকু ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসী সমস্ত আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে রক্ষণা-বেক্ষণ করা তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি মহান শ্রেষ্ঠ।” সূরা আল বাকারাহ -২৫৫ আয়াত]
প্রত্যেক স্বলাতের পর আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাছ পড়বে। মাগরিব ও ফজর স্বলাতের পরে এই সূরা তিনটি [ইখলাস, ফালাক এবং নাছ] তিনবার করে পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব। কারণ নবী করীম [সাঃ] থেকে এ সম্পর্কে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
একই ভাবে পূর্ববর্তী দুআগুলির সাথে ফজর ও মাগরিবের স্বলাতের পর নিুের দুআটি বৃদ্ধি করে দশ বার করে পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ নবী করাীম [সাঃ] থেকে এ সম্পর্কে [হাদীসে] প্রমাণিত আছে।
( لاَإِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْييِ وَيُمِيْتُ وَهُوَعَلىكُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ )
উচ্চারণঃ“লা-ইলাহা ইল্ল্লাল্ল্লাহু,ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হাম্‌দু,ইওহয়্যি ওয়া ইওমীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।”
অর্থঃ “ আল্ল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক ,তাঁর কোন শরীক নেই। সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন। তিনিই সব কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী।”
অত:পর ইমাম হলে তিনবার “আছ্‌তাগফিরুল্ল্লাহ”এবং “ আল্ল্লাহুম্মা আন্‌তাছ ছালামু, ওয়ামিনকাছ ছালামু,তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইক্‌রাম।” বলে মুকতাদীদের দিকে ফিরিয়ে মুখা- মুখী হয়ে বসবে। অতঃপর পূর্বোল্লিখিত দুআগুলি পড়বে। এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, এর মধ্য থেকে সহীহ মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) কতৃক নবী করীম [সাঃ] থেকে বর্ণিত আছে। এই সমস্ত আযকার বা দু’আ পাঠ করা সুন্নাত,ফরজ নয়।
প্রত্যেক মুসলমান নারী এবং পুরুষের জন্যে জোহর স্বলাতর পূর্বে ৪ রাক্‌আত এবং পরে ২ রাক্‌আত, মাগরিবের স্বলাতের পর ২ রাক্‌আত, এশার স্বলাতের পর ২ রাক্‌আত এবং ফজরের স্বলাতর পূর্বে ২ রাক্‌আত । এই মোট ১২ রাক্‌আত স্বলাত পড়া মুস্তাহাব। এই ১২ [বার] রাক্‌আত স্বলাতকে সুনানে রাওয়াতিব বলা হয়। কারণ নাবী কারীম [সাঃ] উক্ত রাকআতগুলি মুকীম অবস্থায় নিয়মিত যত্ন সহকারে আদায় করতেন। আর সফরের অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও [এশার] বিতর ব্যতীত অন্যান্য রাকআতগুলি ছেড়ে দিতেন। নাবী কারীম [সাঃ] সফর এবং মুকীম অবস্থায় উক্ত ফজরের সুন্নাত ও বিতর নিয়মিত আদায় করতেন। তাই আমাদের জন্য নবী করীম [সাঃ] এর আমলই হলো উত্তম আদর্শ। আল্ল্লাহ পাক এরশাদ করেন,

]لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ[ (২১) الأحزاب
অর্থঃ“ নিশ্চয়ই রাসূলুল্ল্লাহ [সঃ] এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।”সূরা আহযাব- ২১

রাসূলুল্ল্লাহ [সাঃ] এরশাদ করেনঃ

( صَلٌّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّيْ ) رواه البخاري
অর্থঃ“তোমরা সেভাবে স্বলাত আদায় কর, যে ভাবে আমাকে স্বলাত আদায় করতে দেখ।” বুখারী

এই সমস্ত সুনানে রাওয়াতিব এবং বিতরের স্বলাত নিজ ঘরেই পড়া উত্তম। যদি কেউ তা মসজিদে পড়ে তাতে কোন দোষ নেই। এ সম্পর্কে নবী করীম [সাঃ] এরশাদ করেনঃ
( أَفْضَلُ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِيْ بَيْتِهِ إِلاَّ الْمَكْتوبَةْ ) متفق على صحته
অর্থঃ“ফরজ স্বলাত ব্যতীত মানুষের অন্যান্য স্বলাত [নিজ] ঘরেই পড়া উত্তম।”হাদীসটি সহীহ
এই সমস্ত রাকআতগুলি [১২ রাকআত স্বলাত] নিয়মিত যত্ন সহকারে আদায় করা হলো জান্নাতে প্রবেশের একটি মাধ্যম।
সহীহ মুসলিমে উম্মে হাবীবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনে বলেন যে, আমি রাসূুলুল্ল্লাহ [সাঃ] কে বলতে শুনেছিঃ
( مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّيْ لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشَرَةَ رَكْعَةً تَطَوُعًا إِلاَّ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتاً فِي الْجَنَّةِ )
অর্থঃ“যে কোন মুসলিম ব্যক্তিই আল্ল্লাহর জন্য [খালেস নিয়্যতে] দিবা-রাত্রে ১২ [বার] রাক্‌আত নফল স্বলাত পড়বে, আল্ল্লাহ অবশ্যই তার জন্য একটি জান্নাতে ঘর বানাবেন।” আমরা যা পূর্বে উল্ল্লেখ করেছি ইমাম তিরমিযী তার বর্ণনায় অনুরূপ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
যদি কেউ আসরের স্বলাতের পূর্বে ৪ [চার] রাকআত এবং মাগরিবের স্বলাতের পূর্বে ২ [দুই] রাকআত এবং এশার স্বলাতের পূর্বে ২ [দুই] রাকআত পড়ে, তা হলে তা উত্তম হবে। কেননা নবী করীম [সাঃ] বলেছেনঃ
( رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الْعَصْرِ )
অর্থ“আল্ল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন,যে আসরের (ফরয) স্বলাতের পূর্বে চার রাকআত (নফল) স্বলাত পড়ে থাকে।” হাদীসটি ইমাম আহমাদ, আবুদাউদ, তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন এবং ইবনে খুযায়মাহ সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্ল্লাহ [সাঃ] বলেছেনঃ
( بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ ؛ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ ؛ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ )
অর্থ“প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে (নফল) স্বলাত, প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে (নফল) নানায।” তৃতীয় বার বলেন “যে ব্যক্তি পড়ার ইচ্ছে করে।” বুখারী
যদি কেউ জোহরের পূর্বে ৪ [চার] রাকআত এবং পরে ৪ [চার] রাকআত পড়ে তবে তা ভাল। এর প্রমাণে রাসূলুল্ল্লাহ [সাঃ] বলেনঃ
( مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبْعٍ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللَّهُ تَعَالىَ عَلَى النّاَرِ )
অর্থঃ“যে ব্যক্তি জোহরের পূর্বে ৪ [চার] রাক্‌আত ও পরে ৪ [চার] রাক্‌আত (সুন্নাত স্বলাত) এর প্রতি যত্নবান থাকে, আল্ল্লাহ পাক তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।”ইমাম আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আহলে সুনান সহীহ সূত্রে উম্মে হাবীবাহ থেকে উল্ল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ সুনানে রাতেবার স্বলাতে জোহরের পরে ২ রাকআত বৃদ্ধি করে পড়বে। কারণ জোহরের পূর্বে ৪ রাকআত এবং পরে ২ রাকআত পড়া সুনানে রাতেবাহ। অতএব জোহরের পরে ২ রাকআত বৃদ্ধি করলে উম্মে হাবীবাহর হাদীসের প্রতি আমল হবে। আল্ল্লাহই তাওফীকদাতা। দরূদ ও ছালাম বর্ষিত হোক, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ৎ, তাঁর পরিবার- পরিজন এবং সাহাবাগণের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর ইত্তেবা’ করবেন তাদের প্রতিও।