রোজাদার বোনদের প্রতি-১

পর্ব- ১ || পর্ব- ২

মূল : আব্দুল মালেক আল কাসেম | | অনুবাদ : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদের রমজান মাস নসীব করেছেন। আমরা তার কাছেই প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের রমজানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করার তাওফীক দান করেন। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো তিনি যেন ক্ষমা করে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ও তার সকল সাহাবীদের উপর।

  • প্রথম পরিচ্ছেদ:

আপনাকে সৃষ্টির মূল উদ্দশ্যে সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন :

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (الذاريات : 56)

আর জিন ও মানুষকে কেবল এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে। (সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ৫৬)

ইমাম নববী রহ. বলেন, এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া হল, মানব ও জিনকে ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই যে উদ্দেশ্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তৎপর থাকতে হবে। যুহদ অবলম্বনের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে দুনিয়াটা হল অস্থায়ী। স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা এটা নয়।

আমার মুসলিম বোন!

আপনার প্রতি আল্লাহর নেআমাত ও অনুগ্রহ সম্পর্কে একটু চিন্তা করুন। তিনি বলেছেন :

 

وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا (إبراهيم : 34)

যদি তোমরা আল্লাহর নেআমাতকে গণনা করতে যাও তবে তা গণনা করতে পারবে না। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৩৪)

তিনি আপনাকে এ সকল নেআমাতে ডুবিয়ে রেখেছেন। এ সব নেআমাতের মধ্যে শ্রেষ্ট নেআমাত হল দীনে ইসলাম। এ বিশ্বে কত কোটি মানুষ আছে তারা এ নেআমাত থেকে বঞ্চিত। তাদের সৌভাগ্য হয়নি, ‌‌‌‌আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এ কথাটির স্বাক্ষ্য দেয়া।

আল্লাহর এ অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে দিয়ে থাকেন।

এরপর তুমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করুন এ জন্য যে, তিনি আপনাকে হিদায়াত ও সঠিক পথে চলার তাওফীক দিয়ছেন। কত মুসলিম নামধারী মানুষ আছে যারা ইসলামের ঘরে জন্ম নিয়েও হিদায়াত বা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়নি।

আর আপনি আল্লাহর নেআমাত নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছেন। তার প্রশস্ত রিযক ভোগ করছেন। তার দেয়া সুসাস্থ্য তুমি উপভোগ করছেন। কাজেই আপনার কর্তব্য হল আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তার নেআমাতের শোকরিয়া আদায় করা। তার নিষেধ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া। তাহলে তিনি এ নেআমাতকে আপনার জন্য অক্ষুন্ন রাখবেন। নেআমাত বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَئِن شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ (إبراهيم : 7)

যদি তোমরা শোকরিয়া আদায় করো তাহলে তিনি তোমাদের বাড়িয়ে দেবেন। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৭)

মনে রাখবেন, মানুষ যা কিছু ইবাদত-বন্দেগী করে আল্লাহর পাওনা তার চেয়ে অনেক বেশী। মানুষ যা গণনা করে তার চেয়ে তার প্রতি আল্লাহর নেআমাত অনেক অনেক বেশী। কাজেই সকাল সন্ধ্যায় আপনি তাওবা করুন। তার দিকে ফিরে আসুন।

  • দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ :

আল্লাহ তাআলার নেআমাতের একটি হল তিনি আপনার আয়ু দীর্ঘ করে দিয়েছেন ফলে আপনি এই রমজান মাস ধরতে পেরেছেন। আপনি একটু ভেবে দেখুন, আপনার কত পরিচিত জন এ রমজান ধরতে পারেনি। এ রমজান ধরার আগেই মৃত্যু তাদের ধরে ফেলেছে। তারা ধনে জনে কম ছিল না কোন দিক দিয়ে। দীর্ঘ জীবন লাভ করা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও সৎকর্ম করার সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। এ জন্য মুসলিম ব্যক্তির বড় পুজি হল তার হায়াত। তাই আপনার উচিত হবে আপনার সময় ও জীবন যেন অকারণে ব্যয়িত না হয়। চিন্তা করে দেখুন, যারা আপনার সাথে গত বছর রমজানের সিয়াম শুরু করেছিল তারা সকলে কি ঈদ পেয়েছিল? ভেবে দেখুন, তারা যদি আবার দুনিয়াতে ফিরে আসতেন তাহলে কী করতেন? তারা কি খেল-তামাশা, মার্কেট, বন্ধু-বান্ধবী আর বিনোদনে মত্ত হয়ে যেতেন, না বেশী করে সৎকর্ম করতে কোমর বেধে লেগে যেতেন? কখনো তারা দুনিয়ার জীবন নিয়ে মত্ত হতেন না। কারণ তারা ভাল করে জেনেছেন:

﴿ فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ (7) وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرّاً يَرَهُ ﴾ [الزلزلة:8،7]

যে অনু পরিমাণ ভাল কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে। আর যে অনু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে সেও তা দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল, আয়াত ৭-৮)

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সেই বাণীটি পাঠ করে আপনি নিজের পাথেয় যোগার করতে সচেষ্ট হতে পারেন। তিনি বলেছেন:

اغتنم شبابك قبل هرمك وصحتك قبل موتك وفراغك قبل شغلك وحياتك قبل موتك.

বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবন-কে, অসুস্থতা আসার পূর্বে সুস্থতা-কে, ব্যস্ততা আসার পূর্বে অবসর-কে আর মৃত্যু আসার পূর্বে জীবনকে সুযোগ মনে করবে।

আর আপনি সর্বশ্রেষ্ট মানুষদের মধ্য থেকে একজন মানুষ হতে চেষ্টা করবেন। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসে এসেছে:

عن أبي بكرة – رضي الله عنه – أن رجلاً قال: يا رسول الله أي الناس خير ؟ قال – صلى الله عليه وسلم -: { من طال عمره وحسن عمله } قال: فأي الناس شر؟ قال – صلى الله عليه وسلم -: { من طال عمره وساء عمله } [رواه مسلم].

আবু বাকরাতা রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ! শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যার জীবন দীর্ঘ হয়েছে আর কর্ম সুন্দর হয়েছে। তাকে আবার প্রশ্ন করা হল, নিকৃষ্ট মানুষ কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যার জীবন দীর্ঘ হয়েছে কিন্তু কর্ম খারাপ হয়ে গেছে। (বর্ণনায় : মুসলিম)

  • তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

নিয়্যতের ব্যাপারে ইখলাছ অবলম্বন ও আল্লাহ তাআলার প্রতি একাগ্র হতে হবে। ইখলাছ হল, সকল কাজ-কর্ম ইবাদত-বন্দেগীতে আল্লাহ-কে সন্তুষ্ট করার নিয়্যত রাখা।

আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে আপনি কি লোক দেখানোর জন্য বা মানুষের কাছে প্রচার করার জন্য ভাল কাজ করছেন, না কি আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার ইচ্ছায় এগুলো সম্পাদন করছেন?

গোপনে এমন কিছু নেক আমলও করুন যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেহ জানবে না। যেমন নফল নামাজ, রাতের অন্ধকারে আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি করা, গোপনে আল্লাহর কাছে দুআ-প্রার্থনা করা, গোপনে কাউকে দান-সদকা করা ইত্যাদি।

জেনে রাখুন, আল্লাহ তাআলা শুধু মুত্তাকী ও মুখলেছ মানুষের নেক আমলগুলো কবুল করেন। যেমন তিনি বলেন,

﴿ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ ﴾ [المائدة:27]

আল্লাহ শুধু মুত্তাকীদের থেকে কবুল করেন। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত ২৭)

আপনি যেন তাদের অন্তর্ভূক্ত না হয়ে যান যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ ত্যাগ করার কারণে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

{ كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى }، قالوا ومن يأبى يا رسول الله ؟ قال: { من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبى } [رواه البخاري].

আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে তারা নয়, যারা আমাকে অস্বীকার করেছে। সাহাবীগন জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উম্মত হয়ে আবার কে আপনাকে অস্বীকার করল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে আমাকে অনুসরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হল সে আমাকে অস্বীকার করল। (বর্ণনায় : বুখারী)

  • চতুর্থ পরিচ্ছেদ:

সর্বদা আল্লাহর স্মরণ ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করুন। যেন আপনার মুখ সর্বদা আল্লাহর জিকিরে ভিজে থাকে। যে সকল দুআ-কালাম রয়েছে সেগুলো সব সময় আমল করুন।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْراً كَثِيراً (41) وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلاً ﴾ [الأحزاب:42،41]

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বেশী বেশী করে আল্লাহর জিকির করো। সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ করো। (সূরা আল আহযাব, আয়াত ৪১-৪২)

তিনি জিকিরকারীদের সম্পর্কে আরো বলেন,

﴿ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيراً وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً ﴾ [الأحزاب:35].

আর জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী. তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত করেছেন ক্ষমা ও মহা-পুরুস্কার। (সূরা আল আহযাব, আয়াত ৩৫)

হাদীসে এসেছে

قالت عائشة – رضي الله عنها -: { كان رسول الله – صلى الله عليه وسلم – يذكر الله في كل أحيانه } [ رواه مسلم]

আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় আল্লাহর জিকির করতেন। (বর্ণনায়: মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

{ سبق المفرّدون } قالوا وما المفردون يا رسول الله؟ قال: { الذاكرون الله كثيراً والذاكرات } [رواه مسلم].

মুফাররিদগণ বিজয়ী হয়েছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুফাররিদ কারা? তিনি বললেন, সে সকল জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী যারা বেশী করে আল্লাহ তাআলার জিকির করে। (বর্ণনায়: মুসলিম)

ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, মোট কথা হল, মানুষ যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমূখ হয় আর পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন তার জীবন ও সময় ধ্বংস হয়ে যায়। এটা হিসাব দিবসে সে অনুভব করবে আর বলবে,

 

﴿ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي ﴾ [الفجر:24].

হায় আফসোস! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার এই জীবনের জন্য। (সূরা আল ফাজর, আয়াত ২৪

হে আমার বোন! জেনে রাখুন, আপনার মৃত্যুর পর কেহ আপনার জন্য নামাজ পড়বে না, রোযা রাখবে না। তাই আপনি আপনার জীবনটাকে কাজে লাগান। বেশী বেশী করে ভাল কাজ, সৎকর্ম, আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত-বন্দেগী করতে থাকুন।

  • পঞ্চম পরিচ্ছেদ:

প্রতিদিন আপনি কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যায়ন করুন। আপনি এ বিষয়ে একটি রুটিন করে নিতে পারেন। প্রতি ফরজ নামাজের পর যদি এক পারা করে তেলাওয়াত করা হয় তবে দৈনিক পাচ পারা তেলাওয়াত সম্পন্ন হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে দেখা যায় যে, রমজানের শুরুর সময় থেকে আমাদের মধ্যে ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি মনোযোগ পরিলক্ষিত হয়। রমজানের শেষ দিনগুলো যত কাছাকাছি চলে আসে আমাদের অলসতা তত বেড়ে যায়। ক্লান্তিতে পেয়ে বসে। হতে পারে শেষ দিনগুলোতে আমরা কুরআন তেলাওয়াতের সময় একেবারেই পাব না। তাই রমজানের প্রথম দিকেই কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি বেশী যত্নবান হওয়া উচিত।

কুরআন তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদীসে এসেছে

عن ابن مسعود – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وسلم -: { من قرأ حرفاً من كتاب الله فله حسنة والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول ألم حرف ولكن أقول ألف حرف، ولام حرف ، وميم حرف } [رواه الترمذي]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করবে তার দশটি সওয়াব সমপরিমাণ একটি সওয়াব অর্জন হবে। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ। (বর্ণনায় : তিরমিজী)

عن ابن عباس – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وسلم -: { إن الذي ليس في جوفه شئ من القرآن كالبيت الخرب } [رواه الترمذي].

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে আল কুরআনের কোন কিছু নেই সে একটি বিরান (পরিত্যাক্ত) ঘরের মত। (বর্ণনায়: তিরমিজী)

عن أبي أمامة الباهلي قال: سمعت رسول الله – صلى الله عليه وسلم – يقول: { اقرأوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعاً لأصحابه } [رواه مسلم].

আবু উমামাহ আল-বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, তোমরা কুরআন তেলাওয়াত করো। কারণ তা কেয়ামতে তা তার পাঠ কারীর জন্য শুপারিশকারী হবে। (বর্ণনায়: মুসলিম)

অতএব হে বোন! রমজানে আপনি কুরআন তেলাওয়াত করুন। কুরআন বুঝে যথাসাধ্য কুরআন মুখস্থ করুন। আর যা মুখস্থ আছে তা রিভিউ করুন যাতে আপনি ভুলে না যান।

  • ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ:

রমজান হল আল্লাহর পথে মানুষকে আহবানের একটি বড় সুযোগ। আপনি আপনার আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীদেরকে পবিত্র এ মাসে আল্লাহর পথে আহবান করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে পারেন। আর এ জন্য আপনি বই-পত্র, ক্যাসেট, অডিও-ভিডিও সিডি ব্যবহার করতে পারেন। দিতে পারেন উপদেশ। আর এভাবেই আপনি দাওয়াতী কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারেন। রুটিন করে প্রতিদিন কমপক্ষে একজন মানুষকে দাওয়াত দেয়ার পরিকল্পনা নিতে পারেন। এভাবে আপনি অর্জন করতে পারেন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল পুরস্কার। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

فوا الله لأن يهدي الله بك رجلاً خير لك من حُمر النعم [متفق عليه]

আল্লাহর শপথ! যদি তোমার মাধ্যমে আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে পথ দেখান তাহলে তা হবে তোমার জন্য লাল উট লাভ করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম)

  • সপ্তম পরিচ্ছেদ:

বান্ধবীদের সাথে অযথা আডডা দেয়া থেকে সাবধানতা অবলম্বন করুন। গীবত বা পরদোষ চর্চা, চোগলখুরী বা একজনের কথা অন্য জনের কাছে লাগিয়ে দেয়া, অশ্লীল কথা-বার্তা পরিহার করে চলুন এবং নিজ মুখকে সংযত রাখুন। যে সকল কথা-বার্তা আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। সর্বদা সুন্দর কথা বলুন। এ সময়টা হল নিজেকে গঠন করার একটি সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে না লাগালে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। সুযোগ মানুষের জীবনে বার বার আসে না। ঈমানদারের প্রতিটি দিন তার জন্য এক সুযোগ।

হাদীসে এসেছে

عن أبي هريرة – رضي الله عنه – قال: كان رجلان من بلى قضاعة أسلما على عهد رسول الله – صلى الله عليه وسلم – فاستشهد أحدهما وأُخر الآخر سنة فقال طلحة بن عبيد الله: فرأيت المؤخر منهما أُدخِلَ الجنة قبل الشهيد فتعجبت لذلك فأصبحت فذكرت ذلك للنبي – صلى الله عليه وسلم – أو ذُكر ذلك للنبي – صلى الله عليه وسلم – فقال: { أليس قد صام بعده رمضان وصلى ستة آلاف ركعة وكذا ركعة صلاة سنة } [رواه أحمد].

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুজাআ এলাকার দু ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। একজন জিহাদের ময়দানে শহীদ হল আর অন্য জন এক বছর পরে মারা গেল। তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রা. বলেন, আমি সপ্নে দেখলাম যে, পরে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদের আগেই জান্নাতে প্রবেশ করেছে। আমি আশ্চর্য হলাম। পরে সপ্নের বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললাম। তিনি বললেন, পরের ব্যক্তি কি একটি রমজান রোযা রাখেনি? সে কি ছয় হাজার রাকআত নামাজ পড়েনি? এবং বহু সংখ্যক সুন্নাত নামাজ আদায় করেনি? (বর্ণনায়: আহমাদ)

 

চলবে………………