রোজাদার বোনদের প্রতি-২

পর্ব- ১ || পর্ব- ২

মূল : আব্দুল মালেক আল কাসেম | | অনুবাদ : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

  • অষ্টম পরিচ্ছেদ:

আপনার দাওয়াতের জন্য আপনার গৃহ হল প্রথম অগ্রাধিকার। প্রথমে নিজেকে নৈতিকতার শিক্ষায় আলোকিক করুন। এরপর আপনার স্বামী, আপনার ভাই, আপনার বোন আপনার সন্তানদের উপদেশ দিন। তাদেরকে নামাজ আদায় করতে, রোযা পালন করতে, কুরআন অধ্যায়ন করতে বলুন। আপনার গৃহে আপনি সুন্দর কথা ও সততার মাধ্যমে সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের নিষেধ চালু করুন। পরিবারের সকলের হিদায়াতের জন্য দুআ-প্রার্থনা করুন। যারা ধর্মীয় ব্যাপারে উদাসীন, এ রমজান তাদের সংস্কার ও সংশোধনের একটি সুযোগ। এ সুযোগটি আপনি কাজে লাগান। এতে আপনিও সওয়াবের অংশীদার হবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

{ من دل على خير فله مثل أجر فاعله } [رواه مسلم].

যে ব্যক্তি কোন ভাল বা কল্যাণের পথ দেখায়, ফলে যে করে, তার মতই সে সওয়াব পায়। (বর্ণনায় : মুসলিম)

তাই আপনি যদি কাউকে কুরআন তেলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করেন আর সে ব্যক্তি তেলাওয়াত করে তাহলে আপনি সেই তেলাওয়াতের সওয়াব পাবেন। সকল সৎকর্মের ব্যাপারে এ নিয়মই আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য।

  • নবম পরিচ্ছেদ:

বাজার আর মার্কেট থেকে যথাসম্ভব নিজেকে দূরে রাখুন। কেননা বাজার হল ফিতনার স্থান ও আল্লাহর জিকির থেকে দূরে রাখার উপকরণ। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

{ أحب البلاد إلى الله مساجدها وأبغض البلاد إلى الله أسواقها } [رواه مسلم].

আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে উত্তম স্থান হল মসজিদ আর সবচেয়ে অপছন্দের স্থান হল বাজার। (বর্ণনায় : মুসলিম)

বাজারে যাওয়ার ব্যাপারে রমজান মাস ও অন্য মাস যেন সমান না হয়ে যায়। এ পবিত্র মাসে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে সাবধানতা অবলম্বন করুন। নিজের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন। পর পুরুষদের সাথে দেখা সাক্ষাত থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এ মাসে যদি আপনি বাজারে যাওয়া বন্ধ রাখেন তাহলে এমন কী ক্ষতি হতে পারে? তাই হাট বাজারে যাওয়া থেকে বিরত থেকে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের কাজগুলো বেশী করে সম্পাদন করুন।

  • দশম পরিচ্ছেদ:

রমজান মাসে উমরা পালনের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদীসে এসেছে :

عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي – صلى الله عليه وسلم – لما رجع من حجة الوداع قال لامرأة من الأنصار اسمها أم سنان: {ما منعك أن تحجي معنا ؟ } قالت: أبو فـــلان [ زوجها ] له ناضحان حج على أحدهما والآخر نسقي عليه فقال لهما النبي – صلى الله عليه وسلم -: { فإذا جاء رمضان فاعتمري فإن عمرة فيه تعدل حجة } أول قال { حجة معي } [رواه البخاري].

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বিদায় হজ থেকে ফিরলেন তখন এক আনসারী মহিলা যার নাম ছিল উম্মে সিনান, তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের সাথে হজ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? সে উত্তর দিল, অমুকের বাপ (অর্থাৎ তার স্বামী)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের (স্বামী স্ত্রী) উভয়কে বললেন, যখন রমজান আসবে তখন তুমি উমরা করবে, কারণ সে সময় উমরা হল হজের সমতুল্য। অথবা তিনি বলেছেন, রমজান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ করার সমতুল্য। (বর্ণনায় : বুখারী)

এমনিতেই উমরার রয়েছে বিশেষ সওয়াব আর রমজানে উমরা করার মধ্যে রয়েছে বেশী সওয়াব। সম্মানিত মাসে, সম্মানিত শহরে, সিয়াম রেখে সম্মানিত অবস্থায় উমরা করার মর্যাদাই আলাদা।

যখন আল্লাহ আপনাকে রমজানে উমরা করার তাওফীক দিলেন, তখন শালীনভাবে, শরয়ী নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে উমরা করার জন্য বের হবেন। আপনার মনে রাখতে হবে যখন এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব কয়েকগুণ বেশী দেয়া হয়, তখন সে মাসে কোন পাপ সংঘটিত হলে তার শাস্তিও বেশী হতে পারে।

  • একাদশ পরিচ্ছেদ:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসে সকল কল্যাণের দ্বার উম্মুক্ত করে দিয়েছেন। আর মানুষের মাধ্যমে অন্যকে রিযিক দান করেন। তাই এ মাসে আপনি বেশী পরিমাণে দান সদকা করবেন। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনাকালে দান সদকাকারীদেরও প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন:

 

كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ ﴿17﴾ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ﴿18﴾ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴿19﴾

রাতের সামান্য অংশ এরা ঘুমিয়ে কাটাতো। আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকতো। আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের অধিকার। (সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ১৭-১৯)

এ আয়তসমূহের আলোকে আল্লাহ তাআলার নিকট প্রশংসিত কাজগুলো আপনি সহজে সম্পাদন করতে পারেন এ পবিত্র মাসে। রাতে কম ঘুমানো, শেষ প্রহরে নামাজ পড়া ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আর বেশী করে দরিদ্র, অসহায়, অভাবী লোকদের দান খয়রাত করতে পারেন।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দান সদকাহ করতে উৎসাহিত করেছেন বার বার। তিনি বলেছেন :

 

{ اتقوا النار ولو بشق تمرة } [رواه مسلم]

একটি খেজুর ভেঙ্গে তা দান করে হলেও তুমি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে পারো। (বর্ণনায় : মুসলিম)

হাদীসে এসেছে :

عن أبي هريرة – رضي الله عنه – أن رسول الله – صلى الله عليه وسلم – قال: { سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله } وذكر منهم: { رجلاً تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه } [متفق عليه].

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সাত ব্যক্তি আল্লাহর ছায়ায় আশ্রয় পাবে যেদিন তার ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না। এ সাত ব্যক্তির একজন হলেন, যে দান সদকা করেছে এমন গোপনে যে তার ডান হাত কী দান করল তা তার বাম হাত জানে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়েদের উদ্দেশ্য বলেছেন :

{ يا معشر النساء تصدقن، وأكثرن الاستغفار، فإني رأتكن أكثر أهل النار } [رواه مسلم].

হে মহিলাগণ! তোমরা দান সদকা করো। বেশী করে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। কারণ আমি তোমাদের অধিকহারে জাহান্নামে দেখেছি। (বর্ণনায়: মুসলিম)

  • দ্বাদশ পরিচ্ছেদ:

নিজের ভাল মন্দ কাজের হিসাব নেয়া, আত্ন-সমালোচনা বা মুহাসাবা করার উত্তম সময় হল পবিত্র রমজান মাস।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

{ إنما الكيس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت والعاجز من اتبع نفسه هواها وتمنى على الله الأماني } [رواه الترمذي].

বুদ্ধিমান হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের হিসাব নিজে করে থাকে আর মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। আর অক্ষম হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ও আল্লাহ ব্যাপারে অনেক ধরনের আশা আকাংখা পোষণ করে। (বর্ণনায়: তিরমিজী)

হাসান রহ. বলতেন, হে মানুষ! তুমি একা মৃত্যু বরণ করবে। একাকী কবরে যাবে। একাকী উত্থিত হবে। আর যখন তোমার হিসাব নেয়া হবে তখন তুমি একাই থাকবে।

ইবনে আউন রহ. বলেছেন, নিজের কাজের আধিক্যের উপর নির্ভর করো না। কারণ, তুমি জানো না এগুলো কবুল করা হয়েছে কি না? আর তোমার পাপ সম্পর্কে নিশ্চিত থেকো না। তুমি তো জানো না এগুলো ক্ষমা করা হয়েছে কি না। তোমার সকল আমলের খবর তোমার অজানা।

  • ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, সুন্দর আচরণ ও তাদের খেদমত করা আমাদের উপর অপরিহার্য দায়িত্ব হিসাবে স্থির করেছেন। তিনি বলেন:

﴿ فَلاَ تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا ﴾ [الإسراء:23].

তবে তাদেরকে উফ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। (সূরা আল ইসরা, আয়াত ২৩)

তিনি আরো বলেন:

﴿ وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ ﴾ [الإسراء:24].

আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও। (সূরা আল ইসরা, আয়াত ২৪)

আল্লাহর পথে জিহাদ যুদ্ধ করা একটি শ্রেষ্ঠ আমল। এতে রয়েছে অত্যন্ত কষ্ট ও জীবনের ঝুকি। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে জিহাদে যোগদানের অনুমতি চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মাতা-পিতা কি জীবিত? সে বলল, হ্যা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তাদের মধ্যে জিহাদ করো। অর্থাৎ তাদের সেবা-যত্ন করা তোমার জন্য একটি জিহাদ। (বর্ণনায় : বুখারী)

মাতা-পিতার প্রতি করুণা করা, তাদের দয়া ভালবাসার সাথে আদর যত্ন করা, তাদের আনুগত্য করা, তাদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করা, তাদের উপহার দেয়া, তাদের খুশী করা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য আদায় করতে পারি। মনে রাখতে হবে মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা শ্রেষ্ঠ নেক আমলের মধ্য গণ্য।

যেমন হাদীসে এসেছে :

 

عن ابن مسعود – رضي الله عنه – قال: سألت رسول الله – صلى الله عليه وسلم -: أي الأعمال أحب إلى الله ؟ قال: { الصلاة على وقتها } . . قلت: ثم أي ؟ . . قال: { بر الوالدين } قلت: ثم أي ؟ قال: { الجهاد في سبيل } [متفق عليه].

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াক্ত মত নামাজ আদায় করা। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

হে বোন! আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন! আপনি সর্বদা আপনার মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করবেন। তারা জীবিত থাক বা মৃত। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। তাদের পক্ষে দান ছদকা করবেন। হয়ত আল্লাহ দয়াময় আপনার মাতা-পিতাকে ক্ষমা করে দেবেন।

পবিত্র এ মাসে অন্যান্য আত্নীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক সুন্দর করুন। তাদের প্রতি যে দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে সেগুলো আদায়ে যত্নবান হোন। তবে অযথা গল্প-গুজব, পরদোষ চর্চা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।

  • চতুর্দশ পরিচ্ছেদ:

তাওবা করা: এ কথাটি আমরা খূব বেশী শুনি। বারবার উচ্চারণ করি। কিন্তু মহিলাদের জীবনে এর বাস্তবায়ন অত্যন্ত কম। বরং তারা অনেক সময় গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় কিন্তু অনুভব করে না যে এটি পাপের কাজ, এটা বর্জন করে তাওবা করা কর্তব্য। যেমন ধরুন মিউজিক, গান-বাজনা ইত্যাদি শোনা। আবার যারা এগুলো করে তাদের প্রশংসা করা হয়ে থাকে। এমনিভাবে টিভির পর্দায় পুরুষ দেখা। এগুলো যেমন পাপের কাজ তেমনি এগুলোর জন্য সময়ের অপচয় করা আরো পাপ। পবিত্র এ মাসে এ সকল পাপ থেকে তাওবা করা একান্ত দরকার।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

﴿ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾ [النور:31]

তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সূরা আন নূর, আয়াত ৩১)

তিনি আরো বলেন:

﴿ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ ﴾ [البقرة:222]

অবশ্যই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালবাসেন আর ভালবাসেন পবিত্রতা অর্জনকারীদের। (সূরা আল বাকারা, আয়াত ২২২

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

{ كل ابن آدم خطاء وخير الخطائين التوابون } [رواه الترمذي والحاكم].

সকল মানব সন্তান ভুল করে থাকে। তবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হল তারা, যারা তাওবা করে। (বর্ণনায় : তিরমিজী ও হাকেম)

হে বোন! তাই আর দেরী নয়। অনেক দেরী হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি তাওবা করুন।

পিছনের সকল পাপ পঙ্কিলতা ধুয়ে ফেলুন আর জীবনের জন্য একটি নতুন পাতা খুলুন। জীবনটাকে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও সততার দ্বারা সজ্জিত করুন। সে দিন আসার পূর্বে নিজের হিসাব নিন

يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ﴿88﴾ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ﴿89﴾

যেদিন ধন-সম্পদেও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না। তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে। (সূরা আশ শুআরা, আয়াত ৮৮-৮৯)

আর মনে করুন সে সময়ের কথা যখন আপনাকে বড়ই পাতা আর কর্পুর দিয়ে গোসল করানো হবে এরপর আপনাকে পাঁচ টুকরো কাপড় পরানো হবে। আর দুনিয়ার সকল সাজ সজ্জা অলঙ্কার আপনার থেকে আলাদা করে ফেলা হবে চিরতরে।

হে আমার মুসলিম বোন!

এ হল কতগুলো উপদেশমূলক টিপস যা আমি তাড়াতাড়ি লিখেছি। যদি এগুলো আপনার অন্তরে রেখাপাত করে তাহলে তাওবা করে এ পবিত্র মাসে আল্লাহমুখী হয়ে যান। আর ভাবুন, হতে পারে এটা আমার জীবনের শেষ রমজান। হতে পারে এরপর আমি আর আগামী বছর বেঁচে থাকবো না। আখেরাতের প্রস্তুতি নিতে থাকুন। জান্নাতের প্রত্যাশী হয়ে পথ চলা শুরু করুন। যে জান্নাতকে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। আর সেই আগুন থেকে নিজেকে বাচিঁয়ে রাখুন, এমন আগুন

﴿ نَزَّاعَةً لِّلشَّوَى (16) تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى ﴾ [المعارج:17،16]

যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে। জাহান্নাম তাকে ডাকবে যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছিলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়ছিল। (সূরা আল মাআরিজ, আয়াত ১৬-১৭)

নিজেকে সব সময়ের জন্য আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে আবদ্ধ রাখুন। যদি পিছনের দিনগুলোতে আপনি ভাল কাজ-কর্ম করে থাকেন তাহলে সামনের দিনগুলোতে এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। যাতে মৃত্যুর পর আপনাকে আফসোস করে বলতে না হয়

﴿ رَبِّ ارْجِعُونِ. لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحاً فِيمَا تَرَكْتُ ﴾ [المؤمنون:99-100]

হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দুনিয়াতে ফেরত পাঠান, যেনে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। (সূরা আল মুমিনূন, আয়াত ৯৯-১০০)

সে দিনটি আসার পূর্বেই আপনি সতর্ক হয়ে যান।

আসুন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করি তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও গুনাবলির উসীলায় তিনি যেন এ মাসটিকে আমাদের জীবনে বার বার নসীব করেন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রোযা ও নামাজ কবুল করুন। আমাদের পূর্বের ও পরের সকল পাপ ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমামীল, দয়াময়।

হে আল্লাহ, আপনি আমাদের উত্তম সঙ্গী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চোখের প্রশান্তি হবে। আমাদের ক্ষমা করুন, ক্ষমা করুন আমাদের মাতা-পিতাকে আর সকল মুসলিম নর নারীকে।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গসহ সকল সাহাবীর উপর আপনার সালাত ও সালাম।