শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১ (বাদা ও আল্লাহর সিফাত)

আলবাদাআ সম্পর্কে রাফেযীদের বিশ্বাস

‘আল-বাদাআ’ অর্থ হচ্ছে, গোপন থাকার পর পরিচিত বা বিকশিত হওয়া। অথবা নতুন চিন্তার উদ্ভব হওয়া। ‘বাদাআ’-র উল্লেখিত দু‘টি অর্থের ভিত্তিতেই একটি বিষয় আবশ্যক হয় যে, অজ্ঞতার পর জ্ঞানের উন্মেষ ঘটা। এ দু‘টি বিষয়ই মহান আল্লাহর শানে বেমানান। তবুও রাফেযীরা এ ‘বাদাআ’ মতবাদকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে থাকে। অর্থাৎ উক্ত বিষয়ে আল্লাহ্‌ প্রথমে অজ্ঞ ছিলেন পরে সে বিষয়ে তাঁর নতুন চিন্তার সৃষ্টি হয়। নাউযুবিলাহি মিন যালিকা।

রাইয়ান ইবনে সাল্‌ত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রেযাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ প্রত্যেক নবীকেই মদ হারামের বিধান ও আল্লাহর জন্য ‘বাদাআ’ সাব্যস্ত করার বাণী দিয়ে প্রেরণ করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘বাদাআ’-ই আল্লাহর সর্বোত্তম ইবাদাত।” অর্থাৎ ‘বাদাআ’র প্রতি বিশ্বাসই আল্লাহর মহান ইবাদাত। আমাদের রব আল্লাহ্‌ এ সিফাত থেকে পবিত্র ও বহু উর্ধ্বে। হে মুসলিম জাতি, ভেবে দেখুন, কিভাবে তারা আল্লাহর সাথে অজ্ঞতাকে জুড়ে দেয়। অথচ আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ النمل: ٦٥

“বল, ‘আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও যমীনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না।” (সূরা আন নামাল : ৬৫)

পক্ষান্তরে রাফেযীরা তাদের ইমাম সম্পর্কে ধারণা করে যে, তারা সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, তাদের নিকট কোন কিছু গোপন নেই। একটু ভেবে দেখুন, এটা কি মুহাম্মদের ইসলাম?!

আল্লাহ তাআলা বলেন :

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ♥ الأعراف: ١٨٠

“আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।” (সূরা আল আ‘রাফ : ১৮০)

আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে রাফেযীদের আক্বীদা

রাফেযীরাই সর্ব প্রথম আল্লাহর জিস্‌ম তথা অবয়ব নিয়ে কথা বলে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্‌ রহ. বলেন, রাফেযীদের মধ্যে হিশাম ইবনুল হাকাম সর্ব প্রথম আল্লাহর ব্যাপারে এরূপ ঔদ্ধত্যপূর্ণ মিথ্যা রটনা করে।

হিশাম ইবনে সালেম আল-জাওয়ালিকি, ইউনুস ইবনে আবদুর রহমান আল-কুম্মী এবং আবু জা‘ফার আল-আহওয়াল ইসনা আশারিয়াহ্‌ দলের এক একজন বড় পণ্ডিত। পরবর্তীতে তারা আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী জাহমিয়াহ্‌ দলে রূপান্তরিত হয়। কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর সিফাতগুলো তারা আস্বীকার করে, যার দৃষ্টান্ত অনেক। ইবনে বাবওয়াইহ্‌ সত্তরের অধিক তার উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। যেমন তারা বলে : “আল্লাহ্‌ সময়, স্থান, প্রকার ও গঠনের সাথে সম্পৃক্ত নন। অনুরূপ তার সাথে কোন প্রকার হারাকাত তথা নড়াচড়া ও চলাফেরার কোন সম্পর্ক নেই। তার জিস্‌ম বা অবয়ব বলতেও কিছু নেই। শুধু তাই নয়, তার কোন অনুভূতি কিংবা আকার-আকৃতিও নেই।”

পবিত্র কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর সিফাত আস্বীকার করে তাদের পণ্ডিতগণ ভ্রান্ত নীতির অনুসরণ করছে। তারা আল্লাহ্‌ তা‘আলার নুযুল তথা দুনিয়ার আসমানে অবতরণের কথাও আস্বীকার করে, আল্লাহর কুরআনকে মাখলুক বলে এবং পরকালে আল্লাহর সাক্ষাতকেও আস্বীকার করে। “বেহারুল আনওয়ার” গ্রন্থে আছে, আবু আব্দুল্লাহ্‌ জা‘ফার সাদেককে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ তা‘আলার দিদার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, সুবহানাল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌ তো এ থেকে অনেক উর্ধ্বে, মানুষের চোখ শুধু তাই দেখে, যার রং, আকার-আকৃতি ও অবস্থান আছে। এসবই আল্লাহর সৃষ্ট মাখলূক, অর্থাৎ আল্লাহ্‌ এসব থেকে পবিত্র।

তারা আরো বলেছে, যে কেউ দেখা বা অনুরূপ কোন সিফাত আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করবে, সে মুরতাদ হয়ে যাবে। তাদের পণ্ডিত জা‘ফার নাজাফী “কাশফুল গেতা” গ্রন্থে বলেন, উল্লেখ্য যে, الرؤية বা আল্লাহর দিদারের বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীসে কোন প্রকার বিশেষণ ও নির্দিষ্ট বিবরণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এসেছে। যেমন আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ ♦ إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ♦

“সেদিন কতক মুখমণ্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।” (সূরা আল কিয়ামাহ : ২২-২৩)

সহীহ্‌ বুখারী ও মুসলিমে জারির ইবেন আব্দুল্লাহ্‌ আল-বাজালী রা. এর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বসে ছিলাম, অতঃপর তিনি সেই সময় চৌদ্দ তারিখের (পূর্ণিমার) উজ্জল চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, “নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রভূকে অচিরেই সরাসরি দেখবে, যেমনভাবে আজকে তোমরা এই উজ্জল চাঁদ দেখছো। যেমন চাদকে দেখতে তোমাদের কোন ভিড় হচ্ছে না।”

এ ছাড়াও আল্লাহর দিদার সম্পর্কে আরো আয়াত ও হাদীস রয়েছে।

আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ♥ الأعراف: ١٨٠

“আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।” (সূরা আল আ‘রাফ : ১৮০)

পুর্ববর্তী অধ্যায়ঃ

◄রাফেযী(শিয়া)দের আবির্ভাব ও দলীয় নামকরন

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ২ (৯০ পারা কুরআন ও সাহাবা)