শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১০ (একটি প্রশ্ন ও তার জবাব)

একটি প্রশ্ন ও তার জবাব

সউদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড এর নিকট সউদী আরবের উত্তর সীমান্ত থেকে কতিপয় লোক এ মর্মে প্রশ্ন করেন যে, সেখানে জা‘ফারিয়াহ্‌ মাযহাবের একদল লোক রয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের যবেহকৃত গোস্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকে, আবার কেউ কেউ তা ভক্ষণ করে। অতএব আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে যে, আমরা কি তাদের যবেহ্‌কৃত গোস্ত খেতে পারব? জ্ঞাতব্য যে, তারা বিপদাপদে ও সুখ স্বাছন্দে ডাকার পরিবর্তে আলী, হাসান, হুসাইন ও তাদের অন্যান্য নেতাদের আহ্বান করে থাকে।

স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের প্রধান মাননীয় শায়খ আবদুল আজীজ বিন বায রহ্‌. শায়খ আবদুর রাজ্জাক আফীফি, শায়খ আব্দুল্লাহ্‌ বিন গুদাইয়ান ও শায়খ আব্দুল্লাহ্‌ বিন কুঊদ, আল্লাহ্‌ তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন, প্রমুখগণ উক্ত প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন।

জবাব:

সকল প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য, দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম. ও তার পরিবার এবং তার সাথীদের উপর। অতঃপর…

“বিষয়টি যদি এমনই হয় যেমন প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছে, অর্থাৎ জা‘ফারিয়াহ্‌ মাযহাবের লোকজন আল্লাহর পরিবর্তে আলী, হাসান, হুসাইন ও তাদের নেতাদের আহ্বান করে, তাহলে তারা অবশ্যই মুশরিক-মুরতাদ ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে। নাউযুবিলাহ্‌। তাদের যবেহ্‌কৃত গোস্ত ভক্ষণ করা হালাল নয়, যদিও তারা যবেহ্‌ করার সময় বিসমিল্লাহ্‌ পাঠ করে, তবুও তা সাধারণ মৃত জানোয়ারের ন্যায়।”

অনুরূপভাবে শায়খ আব্দুল্লাহ্‌ বিন আবদুর রহমান আল-জিবরীন রাহেমাহুল্লাহ্‌কেও এ মর্মে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মুহতারাম শায়খ, আমাদের শহরে একজন লোক রাফেযী আক্বীদায় বিশ্বাসী, সে কসাইয়ের কাজ করে, ফলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের কিছু লোক তাদের পশু যবেহ্‌ করার জন্য তার নিকট যায়। তেমনিভাবে সেখানে কিছু রেষ্টুরেন্টে ঐ ব্যক্তিসহ একই পেশার আরো কয়েকজন কাজ করে। অতএব ঐ রাফেযী শিয়াসহ অনুরূপ ব্যক্তিদের সাথে আচরণ ও ব্যবহার বিধি কিরূপ হওয়া উচিৎ? তার যবেহ্‌কৃত পশুর গোস্ত খাওয়া হালাল না হারাম? এ বিষয়ে আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চাই। আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

জবাব:

রাফেযী আক্বীদায় বিশ্বাসী লোক দ্বারা পশু যবেহ্‌ করা বৈধ নয়, তার যবেহ্‌কৃত গোস্ত খাওয়া হালাল নয়। কেননা রাফেযী আক্বীদায় বিশ্বাসীরা মুশরিক। তারা সুখে-দুঃখে আলী ইবনে আবি তালেবকে আহ্বান করে। এমনকি আরাফার ময়দান, তাওয়াফ ও সাঈতেও। আলী রা.-র সন্তান ও তাদের ইমামদেরকে তারা অনুরূপভাবে আহ্বান করে, যা আমরা একাধিকবার শুনেছি। এরূপ আহ্বান বড় শিরক তথা শিরকে আকবারের শামিল। যার কারণে মানুষ মুরতাদ হয় ও ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। একারণে তারা ইসলামের দৃষ্টিতে হত্যা যোগ্য।

তেমনিভাবে আলী রা.-র বিবরণ ও বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও সীমা লংঘন করে, তাঁকে এমন কিছু বিশেষণে বিশেষায়িত করে যা আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর কারো জন্যে প্রযোজ্য নয়। যেমন তারা আলী রা.-কে রব ও খালেক তথা সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা গণ্য করে। সৃষ্টি জগতের নিয়ন্ত্রক বলে বিশ্বাস করে। এসব ভ্রান্ত বিশ্বাসের ফলে তারা মুরতাদ। এখানেই সীমিত নয় বরং তারা কুরআন শরীফের ব্যাপারে সন্দিহান। এ নিয়ে তারা বিরূপ সমালোচনা করে। যেমন তারা ধারণা করে যে, সাহাবাগণ কুরআন শরীফ বিকৃত করেছেন, আহলে বায়ত ও তাদের শত্রু সম্পর্কে বহু বিষয় কুরআন শরীফ থেকে বিলুপ্ত করেছেন। এ কারণে তারা কুরআন শরীফের অনুসরণ করে না ও কুরআন শরীফকে উপযুক্ত দলীল মানে না। অনুরূপ তারা বিশিষ্ট সাহাবাদের সমালোচনা করে, যেমন প্রথম তিন খলিফা, আশারায়ে মুবাশ্‌শারা, উম্মাহাতুল মু‘মিনীন (নবী পত্নিগণ), আনাস, জাবের, আবু হুরায়রাহ্‌ রা.-সহ অন্যান্য সাহাবা। এসব বিশিষ্ট সাহাবাদের হাদীস তারা গ্রহণ করে না। কারণ তাদের ধারণা মতে এরা কাফের। সহীহাইন তথা বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসের উপর তারা আমল করে না। তবে যে সমস্ত হাদীস আহলে বায়ত থেকে এসেছে সেগুলির উপর আমল করে। মিথ্যা বানোয়াট ও দলীল প্রমাণ বিহীন উক্তি দ্বারা সহীহাইনের হাদীসকে রোধ করার চেষ্টা করে। তারা যা মুখে বলে, অন্তরে তা-ই গোপন করে, যা তারা অন্যের সামনে প্রকাশ করে না। আর তারা বলে যে, “যার নিকট ‘তুকইয়া’ তথা মুনাফিকী নেই তার কোন দীন-ধর্মই নেই।”

অতএব ভ্রাতৃত্ব ও শরীয়তের প্রতি তাদের ভালবাসার ভ্রান্ত দাবী কবুল করা হবে না। কেননা মুনাফিকী করাই হচ্ছে তাদের নিকট ধর্মীয় বিশ্বাস। যা কুরআন সুন্নাহর স্পষ্ট বিরোধী। আল্লাহ্‌ তাদের সর্ব প্রকার অনিষ্ট থেকে আমাদের হেফাযত করুন। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম। [মুহতারাম শায়খ এর নিকট ১৪১৪ হিজরী সনে রাফেযীদের সাথে আচরণের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উক্ত ফতোয়া প্রদান করেন। ]

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৯ (মুশরিক ও সালাফ সালেহীনদের মন্তব্য)

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১১ (শিআদের দ্বারা রচিত ২ টি সুরা)