শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১১ (শিআদের দ্বারা রচিত ২ টি সুরা)

শিআদের দ্বারা রচিত : সূরা আলবেলায়াহ্‌

{ফাসলুল খেতাব নামক গ্রন্থ থেকে}

হে মু‘মিনগণ, তোমরা ঈমান আনয়ন করো দুই নুরের প্রতি। আমি তাদের দুজনকে অবতীর্ণ করেছি, তারা তোমাদের নিকট আমার আয়াত তেলাওয়াত করবে, মহা কঠিন দিবসের আযাব সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করবে। দুই নুর একে অপরের অংশ আর আমি সর্ব শ্রোতা ও সর্ব জ্ঞাতা। নিশ্চয় যারা আয়াতসমূহে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গিকার পূর্ণ করে তাদের জন্য রয়েছে অসংখ্য নেয়ামত পূর্ণ জান্নাত। ঈমান আনার পর যারা অঙ্গিকার ভঙ্গ করে ও রাসূলকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে, তারা (জাহিম) তথা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। যারা নিজেদের নফসের উপর যুলুম করেছে ও রাসূলের অসীর (অসীয়তকৃত ব্যক্তির) না ফরমানী করেছে, তাদেরকে ফুটন্ত গরম পানি পান করানো হবে।
নিশ্চয় আল্লাহ্‌ আসমান ও যমীনকে যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে আলোকিত করেছেন। ফেরেশ্‌তাদের থেকে বাছাই করে মু‘মিনদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আল্লাহ্‌ যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্‌ নেই, তিনি পরম করুণাময় অতীব দয়ালু। তাদের পূর্বে যারা তাদের রাসূলদের সাথে চক্রান্ত করেছে তাদের ঐ চক্রান্তের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করা হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা‘আলা আ‘দ ও ছামুদ জাতিকে তাদের কৃত কর্মের কারণে ধংস করে তোমাদের জন্য উপদেশ বানিয়েছেন তারপরও কি তোমরা ভয় করবে না? মুসা ও তার ভাই হারুনের উপর ফেরাউন অত্যাচার করেছিল, ফলে আমি তাকে ও তার অনুসারীদেরকে নদী গর্ভে ডুবিয়ে দিয়েছি, যেন তারা তোমাদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকে। অথচ তোমরা অধিকাংশই ফাসেক। নিশ্চয় মহান আল্লাহ্‌ তাদেরকে কিয়ামত দিবসে একত্রিত করবেন অতঃপর যখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে তখন তারা কোনই জবাব দিতে সক্ষম হবে না। নিশ্চয় জাহান্নামই হবে তাদের আসল ঠিকানা, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা‘আলা সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

হে রাসূল! আমার সতর্ক বাণী পৌঁছে দাও, তারা অচিরেই জানতে পারবে। যারাই আমার আয়াত ও হুকুমকে অস্বীকার করেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তেমনিভাবে যারা আপনার অঙ্গিকার পূর্ণ করেছে তাদেরকেই নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করেছি। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল মহান পুরস্কার দাতা। আর নিশ্চয় আলী রা. মুত্তাকীদের অন্তর্ভূক্ত, আমি অবশ্যই কিয়ামত দিবসে তার পূর্ণ হক আদায় করব। আমরা তার উপর কৃত অত্যাচার সম্পর্কে গাফেল নই। তোমার পরিবারের মধ্যে তাকেই অধিক সম্মানিত করেছি। যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে তাদের বলুন, তোমরা দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য চেয়েছ, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা তোমরা ভুলে গেছ, তোমরা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছ অথচ ইতোমধ্যেই তোমাদের জন্য কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করেছি, যেন তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।

হে রাসূল, তোমার নিকট আমরা স্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, কে মু‘মিন অবস্থায় মারা যাবে আর তোমার মৃত্যুর পর কে উত্তরাধিকার হবে, তার বর্ণনা তাতে স্পষ্ট রয়েছে। অতএব তাদের থেকে তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও, তারা এ থেকে বিমুখ রয়েছে। আমরা সে দিন তাদেরকে উপস্থিত করব যেদিন কোন কিছু তাদের কোন উপকার করতে পারবে না। তাদের প্রতি কোন রহম করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম, যেখান থেকে পলায়ন করার কোন উপায় নেই। অতএব তোমার রবের নামের প্রশংসা কর এবং তার জন্য সিজদায় অবনত হও। আর মুসা ও হারুনকে প্রেরণ করেছি। তারা হারুনের সাথে বিদ্রোহ করে, অতঃপর তিনি ধৈর্য ধারন করেন ফলে তাদের মধ্য হতে অনেককেই বানর ও শুকরে পরিণত করেছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর লা‘নত করেছি। অতএব ধৈর্য ধারন করুন তারা অচিরেই দেখবে। পূর্ববর্তী রাসূলদের ন্যায় তোমাকেও হুকুম দিয়েছি এবং তোমার জন্য তাদের মধ্য হতে একজন ওসী মনোনিত করেছি। অতএব যে তোমাকে ও তোমার ওসীকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আমার নির্দেশ হতে বিমুখ হবে, আমি-ই তাকে ফিরিয়ে আনব। তাদের কুফরীর মাধ্যমে কিছু আনন্দ উপভোগ করুক। অতএব অঙ্গিকার ভঙ্গকারীদের ব্যাপারে তুমি কিছুই জিজ্ঞেস করো না।

হে রাসূল, যারা ঈমান এনেছে তাদের কাঁধে তোমার জন্য অঙ্গিকার রেখেছি। অতএব সে অঙ্গিকার গ্রহণ কর ও শোকর গোজারদের অন্তর্ভূক্ত হও। নিশ্চয় আলী রাতের বেলায় বিনীতভাবে সিজদাকারী। সে পরকালকে ভয় করে। সে তার রবের প্রতিদান কামনা করে। বলুন, যারা আমার আযাব সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও অত্যাচার করে তারা কি তার বরাবর হতে পারে? আমি অচিরেই তাদের গলদেশে রশি পেঁচিয়ে দেব তখন তারা নিজেদের কর্মের ফলে অনুশোচনা করবে। আমরা অবশ্যই তোমাকে তার সৎ সন্তান সম্পর্কে শুভ সংবাদ দিয়েছি। আর তারা আমাদের নির্দেশের ব্যতিক্রম করে না। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত তাদের জীবিত ও মৃত সকলের উপর আমার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর যারা আপনার পরে তাদের উপর আমার অসন্তোষ কামনা করে তারাতো নিকৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্থ কওম। যারা আমার ঐ রহমত প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নীতির অনুসরণ করে তারা সর্বাবস্থায় শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।”

ধারণাপ্রসূত: লাওহে ফাতেমা

এটি এমন এক কিতাব যা মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহর পক্ষ হতে তার নবী, তার নুর, তার রাষ্ট্রদূত, তার পর্দা ও তার পথপ্রদর্শক মুহাম্মাদের উপর জিবরিল আমীনের মাধ্যমে অবতীর্ন হয়। হে মুহাম্মাদ, আমার নামসমূহের বড়ত্ব ঘোষনা কর, আমার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর, আমার বড়ত্ব ও মহত্বকে অস্বীকার কর না, নিশ্চয় আমি-ই আল্লাহ্‌, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্‌ বা মা‘বুদ নেই, আমি ক্ষমতাধর থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং অত্যাচারিতদের প্রতিদান দানকারী। আমি দীন নির্ধারণকারী। নিশ্চয় আমি আল্লাহ্‌ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্‌ নেই। অতএব যে আমার সম্মান ছাড়া অন্যের সম্মান আশা করবে, আমার ইনসাফ ছাড়া অন্যের ইনসাফকে ভয় করবে, আমি তাকে এমন আযাব দেব যা পৃথিবীর আর অন্য কাউকে দেইনি। সুতরাং আমারই ইবাদত কর এবং আমার উপরই ভরসা কর। আমি যে নবী-ই প্রেরণ করেছি তার সময় ও মেয়াদ পূর্ণ করেছি এবং তার জন্য একজন ওসী নির্ধারণ করেছি। আর আমি তোমাকে সমস্ত নবীর উপর ফযিলত দিয়েছি এবং সমস্ত ওসীর উপর তোমার ওসীর ফযিলত দিয়েছি। আমি তোমার পৌত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন দ্বারা তোমাকে সম্মানিত ও ওহীর ধনভাণ্ডার নির্ধারণ করেছি, শাহাদাতের মাধ্যমে তাকে মর্যাদাবান করেছি এবং সৌভাগ্যের সাথে তার সমাপ্তি ঘটিয়েছি। সে তো এমন শহীদ, যার দ্বারা শহীদদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছি। তার সাথে আমার পূর্ণ কথা নির্ধারণ করেছি এবং তার নিকটে আমার পরিপূর্ণ দলীল রয়েছে। তার সম্মানের কারণে আমি পূণ্য দান করি ও শাস্তি প্রদান করি। তাদের প্রথম হলেন আলী, ইবাদাতকারীদের সরদার ও পূর্ববর্তী আমার ওলীদের সৌন্দর্য, আর তার পুত্র তার প্রসংশিত দাদা মুহাম্মাদ আল-বাকের হচ্ছে আমার ইল্‌ম ও হিকমতের খনি। জা‘ফার এর ব্যাপারে সন্দিহানরা অচিরেই ধ্বংস প্রাপ্ত হবে, তাকে প্রত্যাখ্যান করা আলীকে প্রত্যাখ্যান করার ন্যায়। আমার পক্ষ হতে এ কথা সত্য নির্গত হয়েছে যে, জা‘ফারের পরকাল সম্মানিত করব, তার পরিবার, অনুসারী, সাহায্যকারী ও ওলীদের মাঝে তাকে আনন্দিত করব। এরপর আমার বান্দা মুসাকে কঠিণ গভীর ফিৎনা দেয়া হয়েছে, কেননা আমার বিধান খণ্ডন হয় না ও আমার দলীল গোপন হয় না, আর আমার ওলীগণকে পরিপূর্ণ গ্লাসে পান করানো হবে। ঐ ওলীদের কোন একজনকেও যদি কেউ অস্বীকার করে, তবে সে আমার নে‘য়ামতকেই অস্বীকার করে। আর যে ব্যক্তি আমার কিতাবের একটি আয়াত পরিবর্তন করে, সে আমার কিতাবকেই অস্বীকার করে। আমার ওলী ও সাহায্যকারী আলী সম্পর্কে যারা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা রচনা ও সীমা লঙ্ঘন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অয়েল নামক শাস্তির স্থান। আর যার উপর আমি নবুওয়াতের পোষাক অর্পন করি একজন অত্যধিক চতুর অহংকারী শয়তান তাকে হত্যা করে, যে মদীনা আমার নেক বান্দা বানায়, সে শহরে আমার দুই নিকৃষ্ট সৃষ্টির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আমার কথা সত্য, অতঃপর মুহাম্মদের ইলমের উত্তরাধিকার ও তার খলিফা আলীকে আমি অবশ্যই নির্দেশ করব। সে আমার ইল্‌ম তথা জ্ঞান, আমার গোপনের স্থান, আমার সৃষ্টির উপর অকাট্য প্রমাণ। অতএব যে বান্দা তার প্রতি ঈমান আনে তার ঠিকানা একমাত্র জান্নাত। তাকে আমি আহলে বায়তের মধ্যে থেকে এমন সত্তুর জনের ব্যাপারে সুপারিশ করার অনুমতি দেব, যাদের উপর জাহান্নাম ওয়াজিব হয়েছিল। তার থেকে আমার রাস্তার দায়ী ও আমার ইলমের ভাণ্ডার হাসানকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরুপ নির্গত করব এবং তার সন্তানের মাধ্যমে তা পূর্ণ করব।

সন্ত্রস্ত হবে, তাদের রক্তে যমীন রঞ্জিত হবে তাদের নারীদের মাঝে অপমান ও লাঞ্ছনা বিস্তার লাভ করবে। ওরাই আমার প্রকৃত ওলী তাদের মাধ্যমেই গভীর ফেৎনা দূর করব, ভূমি কম্পন অবস্থা দেখব এবং উর্ধ মূল্য দূর করব। তাদের উপরই তাদের রবের পক্ষ হতে রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, এরাই তো আসল হেদায়েত প্রাপ্ত।

আবদুর রহমান বিন সালেম বলেন, আবু বাসির বলেন, তোমার যুগে যদি এটা ব্যতীত আর কোন হাদীস নাও শোন তবুও এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। [আল কুলাইনী: আল কাফী: (১/৫২৭), আল কাশানী: আল ওয়াফী লিল ফাইয ২/৭২, ও ইবনে বাবওয়াইহ্‌ আল কুম্মী: ইকমালুদ-দ্বীন-৩০১-৩০৪, ও আবি আলী আত-তাবরাসী: এ‘লামুল অরা-১৫২।]

পুর্ববর্তী অধ্যায়ঃ

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১০ (একটি প্রশ্ন ও তার জবাব)

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১২-শেষ পর্ব (গালি দেয়া ও উপসঙ্গহার)