শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১২-শেষ পর্ব (গালি দেয়া ও উপসঙ্গহার)

আবু বকর ও ওমর রা.-র উপর বদ দু‘আ

পরম করুণাময় অতীব দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ্‌! মুহাম্মাদ ও তার বংশধরের উপর শান্তি বর্ষন কর। হে আল্লাহ্‌! তুমি কুরাইশের দুই প্রতিমা ও তাগুত যারা তোমার নির্দেশ অমান্য করেছে এবং তাদের কণ্যাদ্বয়ের উপর লা‘নত তথা অভিসম্পাৎ কর। এরা দুজন তোমার ওহী অস্বীকার করেছে, তোমার নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ হয়েছে ও তোমার রাসূলের নাফরমানী করেছে, তোমার সম্মান ও মহত্বকে অস্বীকার করেছে এবং তোমার বিধানকে লুপ্ত করেছে। তোমার ফরযসমূহ বাতিল করেছে ও তোমার আয়াতের ব্যাপারে বক্রতা অবলম্বন করেছে। তোমার ওলীদের সাথে শত্রুতা করেছে ও তোমার শত্রুদের সাথে মিত্রতা করেছে এবং তোমার দেশকে খারাপ করেছে ও তোমার বান্দাদেরকে নষ্ট করেছে।

হে আল্লাহ্‌, ঐ দু‘জন এবং তাদের অনুসারী, অভিভাবক, দলভুক্ত ও তাদের প্রিয় ব্যক্তিদের লা‘নত কর। তারা দু‘জন নবী গৃহকে নষ্ট করেছে ও গৃহের দরজা প্রাচীর দ্বারা বন্ধ করেছে এবং ছাদ ধংস করেছে। গৃহের উপর নীচ ও ভিতর বাহির সব এলোমেলো করেছে। তাঁর পরিবার ও সাহায্যকারীকে সমূলে শেষ করেছে, তাঁর সন্তানদেরকে হত্যা করেছে। তাঁর ওসীয়তকৃত ব্যক্তি ও তাঁর ইলমের রবের সাথে শিরক করেছে। অতএব তাদের গোনাহের পরিমাণ বেশী করে দাও এবং তাদেরকে সাকার নামক জাহান্নামে স্থায়ী কর, তুমি কি জান সাকার কি? তা তাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দিবে না।

হে আল্লাহ্‌, তারা যে গর্হিত কাজ করেছে, প্রকৃত হক গোপন করেছে, মুনাফিকের ন্যায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যারা তাকে কষ্ট দিয়েছে, তাকে অস্বীকারকারীকে আশ্রয় দিয়েছে, তাকে যারা সত্য বলে বিশ্বাস করে তাদেরকে যারা দূরে ঠেলে দিয়েছে, তারা কাফেরের ন্যায় সাহায্য করেছে, ইমামকে তাচ্ছিল্য করেছে, ফরযকে পরিবর্তন করেছে, সাহাবীদের কথাকে অস্বীকার করেছে, অনিষ্ট করেছে, হত্যা করেছে, কল্যাণকে পরিবর্তন করেছে, কুফর স্থাপন করেছে, মিথ্যা প্রবর্তন করেছে, অধিকার বঞ্চিত করেছে, ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) বিচ্ছিন্ন করেছে, হারাম ভক্ষণ করেছে, যাকাতের মাল হালাল মনে করেছে, বাতিলের ভিত্তি স্থাপন করেছে, দুঃশাসনের বিস্তার ঘটিয়েছে, নিফাকী গোপন করেছে, গাদ্দারী করেছে, অত্যাচার ছড়িয়ে দিয়েছে, অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে, আমানতের খেয়ানত করেছে, ওয়াদা ভঙ্গ করেছে, হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করেছে, পেট ফেঁড়েছে, গর্ভস্থ সন্তানের অকাল গর্ভপাত ঘটিয়েছে, পাঁজরের হাড় ভেঙ্গেছে, দলীল পত্র টুকরা টুকরা করেছে, ঐক্য বিনষ্ট করেছে, সম্মানিতকে অসম্মানী ও অসম্মানীকে সম্মানীত করেছে, এ সমস্ত অন্যায়কারীর সমপরিমাণ লা‘নত তাদের উপর বর্ষণ কর।

হে আল্লাহ্‌, তারা যে সকল আয়াত পরিবর্তন করেছে, যে ফরয তরক করেছে, সুন্নাত বিকৃত করেছে, বিধানাবলী অকেজো করেছে, নির্ধারিত ফিসসমূহ কর্তন করেছে, ওসীয়ত পরিবর্তন করেছে, নির্দেশাবলী অসাড় করেছে, বায়‘আত ভঙ্গ করেছে, সাক্ষ্যসমূহ গোপন করেছে, বহু দাবী বাতিল করেছে, প্রকাশ্য দলীল অস্বীকার করেছে, বহু হিলা-বাহানার আবিস্কার করেছে, খেয়ানতের অবতারনা করেছে, বহু সাজা অতিক্রম করেছে, যে যুদ্ধ যান পরিচালনা করেছে এবং যে সৌন্দর্য তারা অবলম্বন করেছে তাদেরকে এসবের পরিমাণ লা‘নত কর।

হে আল্লাহ্‌, তাদেরকে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় স্থায়ীভাবে অসংখ্য লা‘নত কর, যে সংখ্যার কোন শেষ নেই, যে সময়ের কোন সমাপ্তি নেই। অনুরূপভাবে তাদের সঙ্গী- সাথী, সাহায্যকারী, তাদেরকে যারা ভালবাসে, তাদের দোস্ত আহবার, তাদের প্রতি আত্ম সমর্পনকারী, তাদের নিকট যাঞ্ছাকারী, তাদের পাখায় ভর করে বিচরণকারী, তাদের দলীলের প্রবক্তা, তাদের কথার আনুগত্যকারী এবং তাদের বিধান সত্যায়নকারীদের প্রতিও তুমি লা‘নত বর্ষন কর। (চারবার বল)

হে আল্লাহ্‌, তুমি তাদেরকে এমন কঠিন আযাব দাও, যে আযাব থেকে বাঁচার জন্য জাহান্নামবাসীরাও ফরিয়াদ করে, কবুল কর হে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। (চারবার বল)

হে আল্লাহ্‌, মুহাম্মাদ সা. ও তার বংশধরের প্রতি শান্তি বর্ষন কর। অতঃপর হে আল্লাহ্‌, তোমার হারাম থেকে আমাকে বাঁচিয়ে তোমার হালাল দ্বারা আমাকে সচ্ছলতা দান কর এবং অভাবগ্রস্থতা থেকে আমাকে মুক্তি দাও। হে আমার প্রভু, আমি আমার নফসের উপর যুলুম করেছি আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি প্রদান করছি, আমি তোমার সামনেই রয়েছি। অতএব আমার নফস থেকে তোমার সন্তুষ্টি গ্রহণ কর, আমার সন্তুষ্টি তোমার জন্যই। আমি আর অন্যায়ের প্রতি ফিরে আসব না, যদি আবার ফিরে আসি তবে তুমি আমাকে ক্ষমা করবে। আর ক্ষমাতো তোমারই হাতে। হে আরহামুর রাহেমীন, তোমার দয়ায়, তোমার অনুগ্রহে, তোমার সম্মানে এবং তোমার উদারতায় আমাকে মাফ কর।

“নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সেই লোক অধিক সম্মানিত যে লোক অধিক মুত্তাক্বী…” (সূরা হুজুরাত-১৩)

উপসংহার

সম্মানিত মুসলিম জাতি, উপরোক্ত আলোচনায় আশা করি আপনি আমার সাথে ঐক্যমত পোষন করবেন যে, যারা এরূপ বাতিল বিশ্বাস পোষণ করে তারা মুসলিম নয়, যদিও তারা মুসলিম দাবী করে। অতএব তারা মুসলমানদের মধ্যে তাদের শিয়া ধর্মীয় বিশ্বাস ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যে চেষ্টা করছে, তার মোকাবিলায় আপনি একজন তাওহীদী মুসলিম হিসেবে আপনার কি ভূমিকা হতে পারে?

আপনার দায়িত্ব হচ্ছে, এদের থেকে সতর্ক থাকা, তাদের সাথে সব ধরনের লেনদেন ছিন্ন করা। যারা আল্লাহকে রব হিসেবে বিশ্বাস করে, ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে, মুহাম্মাদকে নবী ও রাসূল হিসেবে করে, তাদের প্রত্যেকের উচিত তাদেরকে ঘৃণা করা ও তাদের থেকে সাবধান থাকা।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্‌ বলেন, “একজন রাফেযী যার সাথেই মেলামেশা করে তার সাথেই মুনাফিকি প্রকাশ করে। কারণ সে অন্তরে যে ধর্মীয় বিশ্বাস পোষন করে, তার মূলই হচ্ছে ধোকাবাজী, প্রতারণা ও মানুষের সাথে অনিষ্টের ইচ্ছা করা। তাদের ধর্মের ভিত্তি এসব বাতিল ও মিথ্যা কথার উপর। কখনো কোন রাফেযীর চরিত্রে আহলে সুন্নাতের বিদ্বেষ পরিলক্ষিত না হলেও, তার কথার সুর ও চেহারায় মুনাফিকি চরিত্র ফুটে উঠে।”

নিশ্চয় তারা অন্তরে আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষন করে, আল্লাহ্‌ তাদের ধংস করুন, বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় চলেছে?

এত কিছুর পরও আহলে সুন্নাতের কিছু লোক রাফেযীদের ধোকায় পড়ে জীবন পরিচালনার বিষয়ে তাদের সাথে একাকার হয়ে গেছে, তাদেরকে নির্ভরযোগ্য মনে করছে। এসবের কারণ হচ্ছে আল্লাহর দীন থেকে বিমুখ হওয়া ও তার তাওহীদী মুসলিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করা এবং কাফের অথবা মুশরিক থেকে বিরত থাকার বিধানাবলী সম্পর্কে অবহিত না হওয়া। অর্থাৎ এ আক্বীদা বিশ্বাসের প্রতি আমল না করা। উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অনুধাবন করতে পারি। অতএব কে এ আহ্বানে সাড়া দেবে? সব শেষে মহান আল্লাহর নিকট এই ফরিয়াদ করি,তিনি যেন তাঁর দীনের মদদ করেন, তাঁর কালেমাকে বুলন্দ করেন, রাফেযী-শিয়াদের অপমান করেন ও তাদেরকে মুসলিমদের জন্য গনিমত করেন।
পুর্ববর্তী অধ্যায়ঃ

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১১ (শিআদের দ্বারা রচিত ২ টি সুরা)