শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৮ (আশুরা ও বায়াত)

আশুরা সম্পর্কে রাফেযীদের বিশ্বাস তার ফযিলত

রাফেযী শীআ‘রা প্রতি বছর মুহার্‌রাম মাসের প্রথম দশদিনে বিশেষ করে আশুরার দিন অর্থাৎ দশই মুহাররাম তারিখে খুবই গুরুত্বের সাথে হুসাইন রা.-র শাহাদতকে স্মরণ করে। এ জন্য তারা শোক প্রকাশ করে, কালো পোষাক পরিধান করে, রাস্তায় রাস্তায় আনন্দ র‌্যালী ও মিছিল বের করে। বিভিন্ন স্থানে মাতম, চিৎকার ও কান্না-কাটিসহ নানা ধরনের মাহফিলের আয়োজন করে। এ সবকে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় উপায় বলে বিশ্বাস করে। দুই হাতে নিজেদের দুই গাল, বুক ও পিঠ চাপড়াতে থাকে এবং ‘ইয়া হুসাইন ইয়া হুসাইন’ বলে জোরে জোরে চিৎকার রবে পরিহিত জামা-কাপড় ছিঁড়তে থাকে। এখানে সীমাবদ্ধ নয়, ইরানসহ অন্যান্য শীআ‘ অধ্যুষিত দেশে তারা নিজেরা নিজেদেরকে লোহার শিকল, তরবারী ও চাকু দ্বারা আঘাত করতে থাকে। তাদের পণ্ডিতগণ এরূপ জঘণ্য কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়ে থাকেন। যেমন মুহাম্মাদ হাসান আল-কাশেফ নামক জনৈক পণ্ডিতকে তাদের সন্তানদের এরূপ বুক ও পিঠ চাপড়ানো ইত্যাদি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এগুলো তো জায়েয, আল্লাহর মহান নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ

“এটাই হল আল্লাহর বিধান; যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাকওয়া থেকেই।” সূরা হাজ : (৩২)

আল্লাহ তাআলা বলেন : “তিনিই নিজ রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন যাতে তোমরা তাতে আরাম করতে পার আর তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সুরা আল কাসাস : ৭৩)

বায়আত সম্পর্কে রাফেযী শিয়াদের বিশ্বাস

রাফেযী শিয়ারা তাদের বারজন ইমামের শাসন ব্যবস্থা ছাড়া অন্যদের হুকুমত তথা শাসন ব্যবস্থাকে বাতিল বলে গণ্য করে। যেমন আবু জা‘ফর বলেন, “মাহদী রাফেযীর পূর্বে যেই পতাকা উত্তোলন করা হবে (অর্থাৎ হুকুমত কায়েম করা হবে) সেই হুকুমতের অধিকারী-ই হবে তাগুত।”

শাসক যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে না হয়, তাহলে তার আনুগত্য করা জায়েয নয়। তবে তুকইয়ার ভিত্তিতে তথা হিলা ও কৌশলের বাহানা করে বাঁচার জন্য আনুগত্য করা যায়। অত্যাচার ও পাপাচারে লিপ্ত ইমাম কিংবা ইমামতের যোগ্যতা রাখে না এমন ব্যক্তির আনুগত্য করাও জায়েয নয়। তারা অর্থাৎ রাফেযী শিয়ারা তাদের কথিত ইমামদের ব্যতীত সকল মুসলিম শাসক ও বিচারকদের ব্যাপারে অনুরূপ ধারণা পোষণ করে। এদের প্রথম সারিতে তারা গণ্য করে খুলাফায়ে রাশেদীন তথা আবু বকর, ওমর ও উসমান রা. প্রমুখদের। এ তিনজনের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট রাফেযী শিয়া আল-মাজলেসী “বেহারুল আনওয়ার” গ্রন্থে বলে, “নিশ্চয় তারা ছিলেন অত্যাচারী, ছিনতাইকারী ও মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী। আহলে বায়তদের উপর যুল্‌ম ও অত্যাচারের জন্য তাদের উপর ও তাদের অনুসারীদের উপর আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হোক।”

এ হচ্ছে তাদের ইমাম আল-মাজলেসীর মন্তব্য, যার কিতাবকে তারা নবী-রাসূলগণের পর মুসলিম মিল্লাতের জন্য হাদীসের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করে। এ কারণেই মুসলিম খলিফাদের যারা সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, তাদেরকে তারা তাগুত ও অত্যাচারী হিসেবে গণ্য করে। যেমন আল-কুলাইনী ওমর ইবনে হানযালাহ্‌ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : “আমি আমাদের এমন দু’জন ব্যক্তি সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করি, যাদের মধ্যে দীন অথবা মীরাছ তথা উত্তরাধিকার বিষয়ে বিবাদ রয়েছে। ফলে তারা সুলতান তথা শাসক অথবা বিচারকের নিকট ফায়সালার জন্য যায়, এটা কি বৈধ? জবাবে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বৈধ বিষয়ে হোক অথবা বাতিল বিষয়ে হোক তাদেরকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে তাদের ফায়সালা মেনে নেয়, সে প্রকৃত পক্ষে হারামই গ্রহণ করে, যদিও সে বিষয়টি তার জন্য বৈধ সাব্যস্ত হয়ে থাকে, কেননা সে তা গ্রহণ করেছে তাগুতের ফায়সালা অনুযায়ী।”

আল-খুমায়নী “আল হুকুমাতুল ইসলামিয়াহ্‌” গ্রন্থে বলেন, স্বয়ং ইমাম নিজেও তাদের বাদশাহ্‌ ও বিচারকদের নিকট যাওয়া থেকে বিরত থাকবে, কেননা তাদের নিকট যাওয়ার অর্থই হচ্ছে তাগুতের নিকট যাওয়ার শামিল।”

“আত-তুকইয়া ফী ফিকহে আহলিল বায়ত” গ্রন্থের নবম অনুচ্ছেদে আয়াতুল্লাহ্‌ আলহাজ শায়খ মুসলিম আদ-দাওয়ারী থিথিসের এক রিপোর্টে অত্যাচারী বাদশাহ্‌র অধীন কাজ করার বিধান সম্পর্কে রয়েছে, অত্যাচারী বাদশাহ্‌ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুন্নী শাসক বা বিচারক। তার বক্তব্যের ভাষা নিম্নরূপ : “বাদশাহর কাজে অনুপ্রবেশের বিধান তিন প্রকার : যথা কখনও এই কাজে প্রবেশ বা অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্য হয় তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভ এবং নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়ন ও প্রয়োজন পুরা করা, তাহলে এটা মুস্তাহাব। আবার কখনও এর উদ্দেশ্য হয় নিজের জীবন ধারণ ও স্বচ্ছলতা অর্জন, এটা জায়েয তবে ঘৃণিত কাজ। আর যদি এর উদ্দেশ্য হয় মু‘মিন ভাইদের প্রতি ইহসান করা ও তাদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা, তাহলে এটা তার জন্য কাফ্‌ফারা স্বরুপ।

শীআ মু‘মিনদের প্রতি ইহসান ও তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করা ও নিজদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য মুসলিমদের অধীন কাজ করা মুবাহ্‌ ও জায়েয ঘৃণিত নয়।

ভেবে দেখ হে মুসলিম জাতি, কিভাবে তারা আহলে সুন্নাতের সাথে অত্যাচারী শব্দ প্রয়োগ করে?! কিভাবে আহলে সুন্নাতের শাসক ও বিচারকের অধীন চাকুরি করার শর্তারোপ করে? তাদের মৌলিক শর্তগুলো হচ্ছে : সাধারণ শিয়াদের উপকার সাধন, চাকুরির বৈধতার জন্য এ নিয়ত জরুরী। অতএব রাফেযী শিয়া শাসকগণ হুকুমাত কায়েম করে শুধুমাত্র রাফেযীদের জন্যই। অনুরূপ তারা যে স্থানে যে কাজই করুক, সেখানেই তাদের অনুসারীদের স্থায়ী ও প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করে এবং আহলে সুন্নাতকে সে কর্ম ও কর্মস্থল থেকে বিরত ও দূরে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে, যেন সেখানে তারা নিজেদের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয়। তাদের এই অনিষ্ট থেকে মুসলমানদেরকে হেফাযতের জন্য মহান আল্লাহই যথেষ্ট।

আল্লাহ তাআলা বলেন :

إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ♦ المائدة: ٧٢

“যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীস্থাপন করে তার জন্য আল্লাহ্‌ অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন আর তার আবাস হল জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (সুরা আল মায়িদাহ্‌-৭২)

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৭(নাজাফ সম্মেলন)

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ৯ (মুশরিক ও সালাফ সালেহীনদের মন্তব্য)