শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৯ (মুশরিক ও সালাফ সালেহীনদের মন্তব্য)

তাওহীদের ধারক আহলে সুন্নাত মুশরিক রাফেযীদের সাথে ঐক্য

প্রিয় পাঠক! শীআহ ও সুন্নীদের মাঝে ঐক্যের ব্যাপারে ড. নাসের আল-কাফারী “মাসআলাতুত তাক্বরীব” কিতাবের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলেন, “আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে যে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে, কুরআনের অপব্যাখ্যা করে, কুরআনের পরেও ইমামদের উপর ইলাহী কিতাব নাযিলের ধারণা পোষণ করে।

তারাইমামতকে নবুওয়াত বলে মনে করে, ইমামগণকে নবীদের ন্যায় বরং আরো উত্তম মনে করে, সকল রাসূলের রেসালত যে একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর যে ইবাদত কেন্দ্রিক, সেই ইবাদতের সঠিক অর্থ বাদ দিয়ে ভিন্ন অর্থ করে। তারা ইমামদের আনুগত্য করাকেই প্রকৃত ইবাদত মনে করে। ইমামদের সাথে অন্যদের আনুগত্য করা শিরকের শামিল ধারণা করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিশিষ্ট সাহাবাদের কাফের বলে, তিন, চার অথবা সাতজন সাহাবী ব্যতীত সকল সাহাবীকে মুরতাদ কাফের বলে দাবী করে। যে ইমামত ও ইসমাত তথা নিষ্পাপ তত্ত্ব এবং তুকইয়ার বিশ্বাস নিয়ে মুসলিম জামা‘আত থেকে বিরত ও বিচ্ছিন্ন থাকে, রাজা‘আত, গায়বাত ও বাদাআ‘-র কথা বলে, তার সাথে কিভাবে ঐক্য সম্ভব?”

রাফেযীদের সম্পর্কে সালাফে সালেহীন পরবর্তীদের মন্তব্য

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্‌ রহ্‌. বলেন, “আহলে ইলম তথা বিদ্যানগণ এ কথায় একমত যে, রাফেযীরা অতি মিথ্যাবাদী একটি দল। তাদের মধ্যে মিথ্যা ও মিথ্যাচারের স্বভাব নতুন নয়। বরং পূর্ব থেকেই তাদের মধ্যে এরূপ স্বভাব রয়েছে। এ জন্য মুসলিম ইমামগণ রাফেযীদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদেরকে অধিক মিথ্যাবাদী হিসেবেই চিনতেন। আশ্‌হাব বিন আবদুল আজীজ বলেন, “ইমাম মালেক রহ্‌.-কে একদা রাফেযী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তাদের সাথে কথা বলো না। তাদের নিকট থেকে কিছু বর্ণনা করো না। কেননা তারা মিথ্যা বলে। ইমাম মালেক আরো বলেন, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীকে গালি দেয়, ইসলামে তার কোন নাম থাকতে পারে না। অথবা বলেন, ইসলামের মধ্যে তার কোন হিস্‌সা বা অংশ থাকতে পারে না।”

মহান আল্লাহর বানী;

مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ ۚ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ ۖ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا ۖ سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ ۚ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ

“মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকূকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চি‎হ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজীলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মত, যে তার কঁচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও নিজ কাণ্ডের উপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। ” (সূরা আল ফাতহ : ২৯)

ইমাম ইবনে কাসীর রহ্‌. বলেন, “এ আয়াতে ইমাম মালেক রাফেযীদের সম্পর্কে বলেন, তারা সাহাবাদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ করে বিধায় তারা কাফের। কারণ তারা সাহাবাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মূলত কুরআনের এ আয়াতকেই অস্বীকার করেছে। ইমাম কুরতুবী রহ্‌. বলেন, “ইমাম মালেক রহ. অতি সুন্দর কথা বলেছেন এবং আয়াতের যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। অতএব যদি কোন ব্যক্তি একজন সাহাবীর মান ক্ষুন্ন করে, অথবা কোন বর্ণনায় সাহাবাদের প্রতি দোষারোপ করে, কিংবা কুৎসা রটনা করে, তাহলে সে সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর সাথেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মুসলিমদের শরীয়তকে বাতিল দাবি করে।”

আবু হাতেম বলেন, আমাকে হুরমুল্লাহ্‌ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফেয়ী রহ. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাফেযী শিয়াহ্‌ অপেক্ষা অধিক মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা আর কাউকে দেখিনি।

মু‘মাল বিন আহাব বলেন, ইয়াযিদ বিন হারুনকে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, প্রত্যেক বিদ‘আতীর ইলম গ্রহণ করা যায়, যদি সে তার বিদ‘আতের দিকে মানুষকে আহব্বান না করে। কিন্তু রাফেযী শিয়াদের থেকে ইলম গ্রহণ করা যায় না। কারণ তারা অতি মিথ্যাবাদী।”

মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-আসবাহানী বলেন, “আমি কুফার কাযী শাবিক বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাফেযী শিয়াহ্‌ ব্যতীত অন্য সকলের নিকট হতে ইল্‌ম গ্রহণ করি। কারণ তারা মাওযু তথা মিথ্যা হাদীস তৈরী করে এবং ঐ বানোয়াট হাদীসকেই দীন হিসেবে গ্রহণ করে।”

মু‘আবিয়াহ্‌ বলেন, “আমি আ‘মাশকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, মানুষ তাদেরকে অর্থাৎ মুগীরাহ্‌ ইবনে সাঈদ রাফেযীর অনুসারীদের মিথ্যাবাদী ব্যতীত কোন নামেই বিশেষায়িত করত না।” ইমাম যাহাবীও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

পূর্ববর্তী ইমামদের মন্তব্যের পর সংক্ষিপ্তভাবে শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেন, “রাফেযীদের এ বিদ‘আত তথা মনগড়া ইসলাম হল নাস্তিক্যবাদ। অর্থাৎ যারা কুফরকেই ইসলাম বলে মনে করে তাদের মূলনীতি থেকে গৃহিত, ফলশ্রুতিতে তাদের অসংখ্য মিথ্যা ও বানোয়াট রাফেযীদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে। এটাকে স্বীকার করে তারা নিজেরাই বলে যে, আমাদের দীন ও ধর্মই হচ্ছে তুকইয়া। তুকইয়া হচ্ছে এই যে, ব্যক্তি মুখে যা বলবে অন্তরে তার বিপরীত গোপন রাখবে। মূলত একেই বলে মিথ্যা ও মুনাফিকী। যার মধ্যে তারা নিমজ্জিত।”

আব্দুল্লাহ্‌ বিন আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, আমি আমার পিতাকে রাফেযী শিয়াহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এরা আবু বকর ও ওমর রা.-কে গাল-মন্দ করে।” একদা ইমাম আহমাদ রহ. কে আবু বকর ও ওমর রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তাদের উপর রহম করা হয়েছে। বিদ্বেষ পোষণকারীরা তাদের উপর যে অপবাদ আরোপ করে, তা থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত ও পুত-পবিত্র। [আল মাসায়েল ওয়াল রাসায়েল আল মারবিয়াহ্‌ আনিল ইমাম ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল লি]

আবু বকর আল-মারওয়াযী থেকে খাল্লাল বর্ণনা করেন, আবু বকর, ওমর ও আয়েশা রা.-কে গাল-মন্দকারী সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ্‌কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ইসলামের গণ্ডির ভেতরে সে আছে বলে আমি মনে করি না।” অর্থাৎ ইসলাম থেকে সে খারিজ।

খাল্লাল আরো বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হার্‌ব ইবনে ইসমাঈল আল-কিরমানী আমাকে খবর দেন, তিনি বলেন, মুসা ইবনে হারুন ইবনে যিয়াদ আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “জনৈক ব্যক্তি যখন আল-ফিরইয়াবীকে এ মর্মে জিজ্ঞেস করেন যে, যে ব্যক্তি আবু বকর রা.-কে গালি দেয়, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তখন তিনি জবাবে বলেন, সে ব্যক্তি অবশ্যই কাফের। জনৈক ব্যক্তি আবারো জিজ্ঞেস করেন, তার কি জানাযা পড়া হবে? তিনি বলেন, না।”

ইবনে হায্‌ম রহ. বলেন, রাফেযী শিয়ারা মুসলিম নয়, তাদের কথা দীনের ব্যাপারে দলীল হিসাবে গণ্য নয়, এটি একটি নতুন মতবাদ বা দল যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর পচিঁশ বছর পর সৃষ্টি হয়েছে। এ দলটি ইহুদী ও খৃষ্টানদের দের মত মিথ্যা ও কুফরীর উপর নির্ভর করে চলে।”

আবু যুর‘আহ্‌ আল-রাযী বলেন, “যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে দেখ, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সাহাবীর মর্যাদা নিয়ে তিরষ্কার করছে, অথবা তাদের মর্যাদা নিয়ে সমালোচনা করছে, তাহলে যেনে রেখো, সে অবশ্যই যিনদিক।”

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৮ (আশুরা ও বায়াত)

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১০ (একটি প্রশ্ন ও তার জবাব)