Tag Archives: শিয়া

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৩ (ইয়াহুদি ও বারা ইমাম)

ইহুদী রাফেযী শিয়াদের মধ্যে মিল

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্‌ রহ. বলেন, “ইহুদীদের সাথে রাফেযীদের সামঞ্জস্যতার কিছু উদাহরণ, ইহুদীদের দাবি, দাউদের বংশধর ব্যতীত রাজত্ব করা কারো জন্য শোভনীয় নয়। আর রাফেযী শিয়াদের দাবি, আলী রা.-র সন্তানগণ ব্যতীত কারো জন্য ইমামত বৈধ নয়।

ইহুদীরা বলে, মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব ও তরবারী অবতীর্ণ ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্‌ নেই। আর রাফেযীরা বলে, মাহদীর আগমন ও আসমানী আহব্বান ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ নেই।

ইহুদীরা আসমানে তারকারাজী উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করে। অনুরূপভাবে রাফেযীরা মাগরিবের সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট ও উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অথচ হাদীসের ভাষ্য এর বিপরীত :

لا تزال أمتي على الفطرة ما لم يخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم.

“আমার উম্মত ইসলামী ফিৎরাতের উপরই বিদ্যমান থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা মাগরিব সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করবে।”

ইহুদীরা তাওরাতে পরিবর্তন এনেছে আর রাফেযীরা কুরআন শরীফে পরিবর্তন করেছে।

ইহুদীরা মোজার উপরে মাসাহ্‌ করা বৈধ মনে করে না। অনুরূপভাবে রাফেযীরাও মোজার উপর মাসাহ্‌ করা বৈধ মনে করে না।

ইহুদীরা ফেরেশতাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে বলে, ফেরেশ্‌তাদের মধ্যে আমাদের শত্রু হচ্ছে জিবরীল, অনুরূপভাবে রাফেযীরা বলে, জিবরীল ভুল করে ওহী নাযিল করেছে মুহাম্মাদের উপর। [গুরাবিয়া নামক আরেকটি দল আছে তারা বলে যে, জিবরীল হচ্ছে, খেয়ানতকারী সে ওহী নাযিল করে মুহাম্মাদ সা. এর উপর অথচ রেসালাত পাওয়ার অধিক হকদার ছিল আলী ইবনে আবি তালেব। এ জন্যই তারা বলে, “খেয়ানত করেছে আমীন তথা জিবরীল আর হায়দার তথা আলীকে রেসালাত থেকে বঞ্চিত করেছে”। হে মুসলিম মিলাত! দেখুন কিভাবে তারা জিবরীল আমীন এর প্রতি খেয়ানতের অপবাদ দিচ্ছে অথচ আল্লাহ্‌ তাকে আমানতদারীর গুনে ভূষিত করেছেন। যেমন আল্লাহ্‌ বলেন, এটা নাযিল হয়েছে আমানতদার আত্নার মাধ্যমে।]

রাফেযীরা খৃষ্টানদের সাথেও বেশ কিছু বিষয়ে মিল রাখে। যেমন খৃষ্টানদের মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর নেই বরং যা দেয় তা ব্যবহারের বিনিময় হিসেবে দেয়। অর্থাৎ স্ত্রীর নিকট হতে যে ফায়েদা গ্রহণ করে তারই বিনিময় হিসেবে গণ্য। অনুরূপ রাফেযীরা মুত‘আহ্‌ বিবাহ (Contract marriage) বৈধ মনে করে এবং প্রদত্ত অর্থ বিনিময় মূল্য হিসেবে গণ্য করে, মোহর হিসেবে নয়।

ইহুদী ও খৃষ্টান জাতি রাফেযীদের থেকে দুটি বিষয়ে উৎকৃষ্ট। ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : মুসার সঙ্গী-সাথীরা। অনুরূপভাবে নাসারাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল : ঈসার শিষ্যরা। আর রাফেযীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তারা বলেছিল : মুহাম্মাদের সাহাবীগণ।”

শায়খ আব্দুল্লাহ্‌ আল-জুমাইলী “বাযলুল মাজহুদ ফী মুশাবিহাতির রাফেযাতে লিল ইহুদ” গ্রন্থে রাফেযী ও ইহুদীদের মধ্যে কতিপয় সাদৃশ্য উল্লেখ করেন, যেমন ইহুদ ও রাফেযীরা নিজেদের ছাড়া অন্যদের

কাফের বলে এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ তথা জান ও মাল হালাল মনে করে। অতঃপর তিনি বলেন, ইহুদীরা মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে, যথা: ইয়াহুদ ও উমামি। উমামিরা হচ্ছে, ঐ সমস্ত লোক যারা ইহুদী নয়। ইহুদীরা আরো বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র তারাই মু‘মিন। আর তাদের নিকট উমামিরা হচ্ছে, কাফের মূর্তিপূজক আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।

তালমুদ গ্রন্থে এসেছে যে, ইহুদীরা ব্যতীত সকল জাতি-ই মূর্তিপূজক। এমনকি ঈসা আ. ও তাদের এ কুফরী সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। তালমুদে তারা বলেছে, ‘ঈসা আ. কাফের, সে আল্লাহকে চেনে না।’ রাফেযীরা বলে মু‘মিন তথা ইহুদী ও তারা ব্যতীত অবশিষ্ট সকলে কাফের ও মুরতাদ। ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই।

মুসলমানদেরকে কাফের বলার কারণ হচ্ছে এই যে, মুসলমানরা ‘বেলায়াত’ মানে না, অথচ রাফেযীরা এটাকে ইসলামের রোকন বলে বিশ্বাস করে। অতএব ‘বেলায়াত’ অস্বীকারকারীরা রাফেযীদের নিকট কাফের। তার কুফরী কালিমা শাহাদাত অথবা ইসলামের পাঁচ রুকনের কোন এক রুকন অস্বীকারকারীর ন্যায়। আর তাদের নিকট বেলায়াত ইসলামের সকল রুকনের উর্ধ্বে।

আল-বারকী আবু আব্দুল্লাহ্‌ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমরা ও আমাদের শিয়ারা ব্যতীত আর কেউ মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই অর্থাৎ শুধুমাত্র আমরাই মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর সব মানুষ তা থেকে মুক্ত।”

আবু আব্দুল্লাহ সূত্রে তাফসীরে কুম্মীতে রয়েছে, তিনি বলেন, “আমরা ও ইহুদীরা ব্যতীত কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের উপর আর কেউ নেই।”

ইমামদের ব্যাপারে রাফেযীদের বিশ্বাস

রাফেযীদের দাবী : ইমামগণ নিষ্পাপ, তারা গায়েব জানেন। আল-কুলাইনী “উসুলুল কাফী” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “ইমাম জাফার সাদেক বলেন, আমরা হলাম আল্লাহর ইলমের ভাণ্ডার। আমরা আল্লাহর নির্দেশাবলীর অনুবাদক। আমরা নিষ্পাপ কওম। আমাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমাদের ফরমানী থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আসমানের নীচে ও যমীনের উপরে বিদ্যমান সকলের জন্য আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ হুজ্জাত তথা দলীল।”

উক্ত গ্রন্থের অনুচ্ছেদ “নিশ্চয় ইমামগণ যখন জানার ইচ্ছা করেন তখনই তারা তা জেনে যান”-এ জা‘ফার সূত্রে কুলাইনী উল্লেখ করেন, “নিশ্চয় একজন ইমাম যখন জানার ইচ্ছা করেন তখনই তিনি তা জেনে যান, আর ইমামগণ কখন মৃত্যু বরণ করবেন, তাও তারা জানেন, তারা নিজেদের ইচ্ছা ব্যতীত মৃত্যু বরণ করেন না।”

খুমাইনী “তাহরীরুল ওয়াসীলাহ্‌” গ্রন্থে বলেন, “নিশ্চয় ইমামের প্রশংসিত স্থান ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। জগত পরিচালনার খেলাফতও তার উপর ন্যাস্ত। তার নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের প্রতি জগতের সব কিছুই অনুগত।”

তিনি আরো বলেন, “নিশ্চয় আমাদের বারো ইমামের সাথে আল্লাহর কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। যা তার নৈকট্য লাভে ধন্য কোন ফেরেশ্‌তারও নেই। এমনকি কোন নবী রাসূলেরও নেই।”

রাফেযীরা তাদের ইমামদের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে বলেছে যে, নবী মুহাম্মাদ ব্যতীত সকল নবীর চাইতে তাদের ইমামদের ফযিলত ও মর্যাদা বেশী। আল-মাজলেসী “মিরআতুল উকুল” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “ইমামগণ আমাদের নবী মুহাম্মাদ(সাঃ) ব্যতীত সকল নবীর চেয়ে উত্তম ও অধিক সম্মানের অধিকারী।”

ইমামদের ব্যাপারে রাফেযীদের সীমালঙ্ঘন এখানেই শেষ নয়, বরং তারা বলে, জগত পরিচালনার দায়িত্ব ইমামদের। আল খু-ই “মিসবাহুল ফুকাহা” গ্রন্থে বলেন, সমস্ত জগতের পরিচালার দায়িত্ব তাদের রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। বিভিন্ন সূত্র থেকে এরূপই প্রতীয়মান হয়। কারণ, তারাই হচ্ছেন সব কিছুর মিডিয়া অর্থাৎ তাদের দ্বারাই সব কিছুর অস্তিত্ব। তারাই সকল সৃষ্টির মূল কারণ। অতএব, যদি তারা না হতেন তাহলে কোন মানুষই সৃষ্টি হতো না। তাদের জন্যই সকল মানুষের সৃষ্টি। তাদের দ্বারাই সকলের অস্তিত্ব। এদের কারণেই সৃষ্টির শ্রীবৃদ্ধি। শুধু তা-ই নয় বরং সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত তাদের হাতেই রয়েছে সৃষ্টিজগত পরিচালনার কর্তৃত্ব। আর এ সব পরিচালনার কর্তৃত্ব্ব আল্লাহর কর্তৃত্বের ন্যায়।” আল্লাহ তাদের সীমালঙ্ঘন ও পদস্খলন থেকে আমাদের রক্ষা করুন। ইমামগণ কিভাবে এ সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের মিডিয়া বা মাধ্যম হতে পারেন? ইমামগণ কিভাবে এই সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের কারণ হতে পারেন? ইমামগণ কিভাবে মানুষ সৃষ্টির কারণ হতে পারেন? কিভাবে ইমামদের জন্য মানুষ সৃষ্টি হতে পারে? অথচ আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

“আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।” (সূরা আজ-জারিয়াত : ৫৬)

পবিত্র কুরআন ও সহীহ্‌ সুন্নাহ্‌ থেকে বিচ্যুত এরূপ ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ঠ আক্বীদা থেকে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্‌ রহ্‌. বলেন, “রাফেযী শিয়ারা ধারণা করে যে, দীন তাদের পীর-পুরোহিতদের ইচ্ছার উপর ন্যাস্ত। তারা যা হালাল বলবে তাই হালাল। এবং তারা যা হারাম বলবে তাই হারাম। তারা যে বিধান রচনা করবে তাই শরীআত বলে গণ্য।”

সম্মানিত পাঠক! আলী রা. এর ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি, শিরক ও কুফরী সম্পর্কে যদি জানতে চান, তাহলে তাদের আধুনিককালের কবি শায়খ ইবরাহীম আল-আমলীর রচিত ছন্দগুলো পড়ুন :

হে আবু হাসান তুমিতো ইলাহের চক্ষু

এবং তাঁরই মহান কুদরতের ঠিকানা

তুমিতো অদৃশ্যের জ্ঞানের আয়ত্বকারী

তোমাকে ফাঁকি দিয়ে কেউ নিজেকে গোপন করতে পারে?

তুমি-ই সমস্ত জগতের পরিচালক

সৃষ্টি জগতের সাগর নালা তোমারই

তোমারই সব কর্তৃত্ব যদি চাও আগামী কাল জিন্দা করবে

নয়তবা মুখমন্ডলের সম্মুখ ভাগে হেঁচড়ে তুলবে।

আলী রা.- প্রশংসায় কবি আলী বিন সুলাইমান আল মাযিদী বলেন,

হে আবু হাসান তুমি কুমারীর স্বামী

ইলাহের পাঁজর ও রাসূলের আত্মা

পূর্ণিমার চন্দ্র ও উজ্জল সূর্য

রব্বের গোলাম এবং তুমি-ই মালিক

গাদীর দিনে রাসূল তোমাকেই ডেকেছে

গাদির দিনের বিষয়টি তোমার উপরই অর্পিত

কেননা তুমি-ই মু‘মিনদের আমীর

তার ওলীর হার তোমাকেই পরিয়েছে

সমস্ত বিষয় তোমার জন্যই হয়

তুমি-ই অন্তরের সমস্ত ভেদ জানো

কবরস্থিত সব কিছু তুমি-ই পুনরুত্থানকারী

কিয়ামতে হুকুম পরিচালনার দায়িত্ব

তুমি-ই সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।

তুমি না হলে একটি তারকাও চলত না

কোন গ্রহ ও কক্ষপথ হত না।

তুমি-ই সকল স্থল ভূমি সম্পর্কে জ্ঞাত

তুমি-ই গুহাবাসীদের সাথে কথোপকথনকারী

তুমি না হলে মুসা কালিমুলাহ্‌ হতো না

তারই প্রশংসা যিনি তোমাকে রূপ দিয়েছেন।

তোমার নামের রহস্য বিশ্ববাসী অচিরেই দেখবে

তোমার ভালবাসা কপালের উপর উজ্জল সূর্যের ন্যায়

তোমার প্রতি বিদ্বেষ, বিদ্বেষকারীদের মুখমন্ডলে

আলকাতরার ন্যায়, তোমার বিদ্বেষকারীর সফলতা নেই।

যা ছিল, যা হবে

যত নবী ও রাসূল

লওহ কলম যত জ্ঞানী গুনি

সবই তোমার বান্দা সবই তোমার গোলাম।

হে আবু হাসান সৃষ্টির পরিচালনাকারী

তিরস্কৃতদের আশ্রয়স্থল ও প্রতিনিধি দলের ঠিকানা

কিয়ামত দিবসে তোমার আশেকদের শারাবদাতা

তোমাকে অস্বীকারকারী পুনরুত্থানে অস্বীকারকারী

হে আলী ফখরকারী আবু হাসান

তোমাকে নেতা মানাই আমার কবরে উজ্জল মিনার

তোমার নামই আমার দুরাবস্থায় বাঁচার আঁধার।

তোমার ভালবাসা-ই আমাকে তোমার জান্নাতে প্রবেশকারী

যখন জলিল-কদর ইলাহের নির্দেশ আসে

ঘোষণাকারী ঘোষণা দেয় পরকালে পাড়ি, পরকালে পাড়ি,

যে তোমার নামে স্বাদ গ্রহণ করে তাকে কিভাবে দিবে ছাড়ি?

যে ব্যক্তি ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করে সে কি কখনো এরূপ কবিতা আবৃত করতে পারে? আল্লাহর কসম! জাহেলী যুগের লোকেরা পর্যন্ত এই হতভাগ্য রাফেযীর ন্যায় এরূপ শিরক, কুফর ও ভালবাসায় সীমালঙ্ঘন করেনি। আল্লাহ তাআলা বলেন :

فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ♦ الكهف: ١١٠

“… যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন সৎ আমল করে আর তার প্রতিপালকের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।” (সূরা আল কাহাফ : ১১০)

 

 

পুর্ববর্তী অধ্যায়ঃ

◄শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ২ (৯০ পারা কুরআন ও সাহাবা)

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ৪ (পুনর্জম্ম ও তুকাইয়া)

রাফেযী(শিয়া)দের আবির্ভাব ও দলীয় নামকরনঃ ১

রাফেযী শিয়া সম্প্রদায়ের আবির্ভাব

আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদী বাহিক্যভাবে ইসলাম গ্রহণ করে, আহলে বায়আত তথা রাসূলের পরিবারের প্রতি মহব্বত ও আলী (রাঃ)-র প্রতি ভালবাসার ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হয় এবং আলী রা.-কে খেলাফতের প্রথম ওসি দাবি করে। এক পর্যায়ে ইলাহ্‌-এর স্থানে অধিষ্ঠিত করে। সেখান থেকেই রাফেযী সমপ্রদায়ের উৎপত্তি। এসব কথার সত্যতার প্রমাণ খোদ শিয়াদের কিতাবই। আল-কুম্মী তার “আল মাকালাত ওয়াল ফিরাক” গ্রন্থে বলেন, “আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সাবা আলী রা.-কে ইমামতের প্রথম হকদার দাবি করে, আবু বকর, ওমর ও উসমানসহ সকল সাহাবা সম্পর্কে মিথ্যাচার ও বিষোদগারে লিপ্ত হয়।”

অনুরূপ মন্তব্য করেছেন “ফিরাকুশ শিয়া” নওবাখতী ও “রিজালুল কিশ্‌শী” গ্রন্থে কিশ্‌শী।

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সাবা সম্পর্কে একই মন্তব্য করেছেন বর্তমান যুগের শিয়া মুহাম্মাদ আলী আল-মু‘আলেম “আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সাবা আল হাক্বীক্বাতুল মাজহুলাহ্‌” গ্রন্থে। তারা সকলে রাফেযী মতের এক একজন বড় পণ্ডিত। আল-বাগদাদী বলেন, “সাবায়ীরা হচ্ছে আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সাবার অনুসারী। এ আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সাবা-ই আলী রা.-র ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে তাকে নবী দাবি করেছে। পরবর্তীতে তাকে আল্লাহ পর্যন্ত দাবি করেছে।” বাগদাদী আরো বলেন, “ইবনে সাওদা অর্থাৎ ইবনে সাবা আসলে ইয়াহুদী ছিল, কুফাবাসীর নিকট নেতৃত্ব ও সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে সে মুসলিম হিসেবে প্রকাশ করে। তাওরাতের সূত্র ‘প্রত্যেক নবীর একজন ওসী থাকে’ হিসেবে আলী রা.-কে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ্‌ওয়া সাল্লামের ওসী আখ্যা দেয় এবং কুফাবাসীর নিকট তা প্রকাশ করে।

সাহরাস্তানী ইবনে সাবা সম্পর্কে বলেন, সেই সর্ব প্রথম আলী রা.-র ইমামতের দাবী তুলে। সাবায়ী সমপ্রদায় সম্পর্কে বলেন, এরা প্রথম প্রথম ‘গায়বাত’ ও ‘রাজাআত’ মতবাদ পেশ করে। পরবর্তীতে তাদের অনুসারী শিয়ারা এ মতবাদের উত্তরাধিকারী হয়। আলী রা.-র ইমামত ও খেলাফত এবং তার ওসী হওয়ার অভিমত ইবনে সাবারই মীরাস। এরপর তার অনুসারী অর্থাৎ শিয়া সমপ্রদায় অসংখ্য দলে বিভক্ত হয়। এভাবে আলী রা.-র ওসী ও ইমামত বরং ইলাহ হওয়ার দাবি নিয়ে ইহুদী ইবনে সাবার অনুসারী শিয়াদের উৎপত্তি হয়।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا النساء: ٥٩

আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।” (সূরা আন নিসা : ৫৯)

শিয়া থেকে রাফেযী নামকরণ

শিয়া বিদ্যান শায়খ মাজলেসী “বেহারুল আনওয়ার” কিতাবে উল্লেখ করেন। অধ্যায়: ‘রাফেযার ফযিলত ও নামকরণের সাধুবাদ’ অতঃপর সুলাইমান আল-আ‘মাশ থেকে উল্লেখ করেন, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ্‌ জা‘ফার ইবনে মুহাম্মাদের নিকট প্রবেশ করে বলি, আপনার জন্য আমাকে উৎসর্গ করেছি, মানুষেরা আমাদেরকে রাওয়াফেয (রাফেযী এর বহুবচন) বলে, রাওয়াফেয মানে কি? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তারা এ নামকরণ করেনি, বরং আল্লাহ্‌ মুসা আ. ও ঈসা আ.-র ভাষায় তাওরাত ও ইনজিলে তোমাদের এ নামকরণ করেছেন।

আরো বলা হয় যে, যায়েদ আলী ইবনে হুসাইনের নিকট এসে বলে, আমাদেরকে আবু বকর ও ওমর থেকে মুক্ত করুন, যেন আমরা আপনার সাথে থাকতে পারি। তিনি বলেন, তারা দুজন তো আমার দাদার সঙ্গী আমি তাদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করি। তখন তারা বলে, إذا نرفضك অর্থাৎ তাহলে আমরা আপনাকে বর্জন করব। অতঃপর সেখান থেকেই তাদের নামকরণ হয় রাফেযাহ্‌ বা রাফেযী। যারা তার হাতে বায়‘আত করে ও যায়দীয়া মত পোষণ করে, সাধারণত তাদেরকেই এ নামে অবিহিত করা হয়।

আরো বলা হয় যে, আবু বকর ও ওমরের ইমামাত আস্বীকার করার জন্য তাদেরকে রাফেযী বলা হয়।

আরো বলা হয় যে, তারা যেহেতু দীন ত্যাগ করেছে, তাই তাদেরকে রাফেযা বলা হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাস বলেন, “আমার সুন্নাত ও আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত পালন করা তোমার অবশ্য কর্তব্য, এই সুন্নাতকে তোমরা হাতে-দাঁতে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে। আর সাবধান! ইসলামী শরীয়তে তোমরা নতুন কিছু আবিস্কার করবে না, কেননা প্রত্যেক নব আবিস্কৃারই হচ্ছে বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আতই হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ্‌)

রাফেযীদের নানা দল উপদল

“দায়েরাতুল মা‘আরেফ” কিতাবে বর্ণিত আছে যে, “প্রসিদ্ধ তেহাত্তর দলের চাইতেও শিয়াদের দল উপদলের সংখ্যা আরো বেশী।”[দায়েরাতুল মা’আরেফঃ ৪/৬৪] প্রসিদ্ধ রাফেযী মীর বাকের আল দাম্মামের [তিনি হলেন মুহাম্মাদ বাকের মুহাম্মাদ আল ইস্তেরাবাদী, ১০৪১ সালে মৃত্যু হয়। তার জীবনী- আব্বাস আল কুম্মিঃ ‘আল কুলা ওয়াল] বরাতে বলা হয়েছে, হাদীসে বর্ণিত তেহাত্তর দলের সবাই শিয়া, তাদের মধ্যে মুক্তি প্রাপ্ত দল শুধু ইমামিয়াহ্‌ (ইমামিয়াহ্‌ শিয়াদের একটি উপদল)। মুকরেযী বলেন, তাদের দলের সংখ্যা তিনশোর মত।

শাহ্‌রস্তানী বলেন, “রাফেযীরা পাঁচ দলে বিভক্ত:

(১) আল কিসানিয়াহ্‌

(২) আল যায়দিয়াহ্‌

(৩) আল ইমামিয়াহ্‌

(৪) আল গালিয়াহ্‌

(৫) আল ইসমাঈলিয়াহ্‌।”

বাগদাদী বলেন, “আলী রা. এর পরবর্তী যুগে রাফেযীরা চার ভাগে বিভক্ত হয়:

(১) যায়দিয়াহ্‌

(২) ইমামিয়াহ্‌

(৩) কিসানিয়াহ্‌

(৪) গুলাত।

তিনি আরো বলেন যে, যায়দিয়াহ্‌ রাফেযী ফিরকাভুক্ত নয়।

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১ (বাদা ও আল্লাহর সিফাত)

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ১ (বাদা ও আল্লাহর সিফাত)

আলবাদাআ সম্পর্কে রাফেযীদের বিশ্বাস

‘আল-বাদাআ’ অর্থ হচ্ছে, গোপন থাকার পর পরিচিত বা বিকশিত হওয়া। অথবা নতুন চিন্তার উদ্ভব হওয়া। ‘বাদাআ’-র উল্লেখিত দু‘টি অর্থের ভিত্তিতেই একটি বিষয় আবশ্যক হয় যে, অজ্ঞতার পর জ্ঞানের উন্মেষ ঘটা। এ দু‘টি বিষয়ই মহান আল্লাহর শানে বেমানান। তবুও রাফেযীরা এ ‘বাদাআ’ মতবাদকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে থাকে। অর্থাৎ উক্ত বিষয়ে আল্লাহ্‌ প্রথমে অজ্ঞ ছিলেন পরে সে বিষয়ে তাঁর নতুন চিন্তার সৃষ্টি হয়। নাউযুবিলাহি মিন যালিকা।

রাইয়ান ইবনে সাল্‌ত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রেযাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ প্রত্যেক নবীকেই মদ হারামের বিধান ও আল্লাহর জন্য ‘বাদাআ’ সাব্যস্ত করার বাণী দিয়ে প্রেরণ করেছেন।

আবু আব্দুল্লাহ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘বাদাআ’-ই আল্লাহর সর্বোত্তম ইবাদাত।” অর্থাৎ ‘বাদাআ’র প্রতি বিশ্বাসই আল্লাহর মহান ইবাদাত। আমাদের রব আল্লাহ্‌ এ সিফাত থেকে পবিত্র ও বহু উর্ধ্বে। হে মুসলিম জাতি, ভেবে দেখুন, কিভাবে তারা আল্লাহর সাথে অজ্ঞতাকে জুড়ে দেয়। অথচ আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ النمل: ٦٥

“বল, ‘আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও যমীনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না।” (সূরা আন নামাল : ৬৫)

পক্ষান্তরে রাফেযীরা তাদের ইমাম সম্পর্কে ধারণা করে যে, তারা সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, তাদের নিকট কোন কিছু গোপন নেই। একটু ভেবে দেখুন, এটা কি মুহাম্মদের ইসলাম?!

আল্লাহ তাআলা বলেন :

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ♥ الأعراف: ١٨٠

“আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।” (সূরা আল আ‘রাফ : ১৮০)

আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে রাফেযীদের আক্বীদা

রাফেযীরাই সর্ব প্রথম আল্লাহর জিস্‌ম তথা অবয়ব নিয়ে কথা বলে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ্‌ রহ. বলেন, রাফেযীদের মধ্যে হিশাম ইবনুল হাকাম সর্ব প্রথম আল্লাহর ব্যাপারে এরূপ ঔদ্ধত্যপূর্ণ মিথ্যা রটনা করে।

হিশাম ইবনে সালেম আল-জাওয়ালিকি, ইউনুস ইবনে আবদুর রহমান আল-কুম্মী এবং আবু জা‘ফার আল-আহওয়াল ইসনা আশারিয়াহ্‌ দলের এক একজন বড় পণ্ডিত। পরবর্তীতে তারা আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী জাহমিয়াহ্‌ দলে রূপান্তরিত হয়। কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর সিফাতগুলো তারা আস্বীকার করে, যার দৃষ্টান্ত অনেক। ইবনে বাবওয়াইহ্‌ সত্তরের অধিক তার উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। যেমন তারা বলে : “আল্লাহ্‌ সময়, স্থান, প্রকার ও গঠনের সাথে সম্পৃক্ত নন। অনুরূপ তার সাথে কোন প্রকার হারাকাত তথা নড়াচড়া ও চলাফেরার কোন সম্পর্ক নেই। তার জিস্‌ম বা অবয়ব বলতেও কিছু নেই। শুধু তাই নয়, তার কোন অনুভূতি কিংবা আকার-আকৃতিও নেই।”

পবিত্র কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর সিফাত আস্বীকার করে তাদের পণ্ডিতগণ ভ্রান্ত নীতির অনুসরণ করছে। তারা আল্লাহ্‌ তা‘আলার নুযুল তথা দুনিয়ার আসমানে অবতরণের কথাও আস্বীকার করে, আল্লাহর কুরআনকে মাখলুক বলে এবং পরকালে আল্লাহর সাক্ষাতকেও আস্বীকার করে। “বেহারুল আনওয়ার” গ্রন্থে আছে, আবু আব্দুল্লাহ্‌ জা‘ফার সাদেককে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ তা‘আলার দিদার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, সুবহানাল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌ তো এ থেকে অনেক উর্ধ্বে, মানুষের চোখ শুধু তাই দেখে, যার রং, আকার-আকৃতি ও অবস্থান আছে। এসবই আল্লাহর সৃষ্ট মাখলূক, অর্থাৎ আল্লাহ্‌ এসব থেকে পবিত্র।

তারা আরো বলেছে, যে কেউ দেখা বা অনুরূপ কোন সিফাত আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করবে, সে মুরতাদ হয়ে যাবে। তাদের পণ্ডিত জা‘ফার নাজাফী “কাশফুল গেতা” গ্রন্থে বলেন, উল্লেখ্য যে, الرؤية বা আল্লাহর দিদারের বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীসে কোন প্রকার বিশেষণ ও নির্দিষ্ট বিবরণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এসেছে। যেমন আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ ♦ إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ♦

“সেদিন কতক মুখমণ্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।” (সূরা আল কিয়ামাহ : ২২-২৩)

সহীহ্‌ বুখারী ও মুসলিমে জারির ইবেন আব্দুল্লাহ্‌ আল-বাজালী রা. এর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বসে ছিলাম, অতঃপর তিনি সেই সময় চৌদ্দ তারিখের (পূর্ণিমার) উজ্জল চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, “নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রভূকে অচিরেই সরাসরি দেখবে, যেমনভাবে আজকে তোমরা এই উজ্জল চাঁদ দেখছো। যেমন চাদকে দেখতে তোমাদের কোন ভিড় হচ্ছে না।”

এ ছাড়াও আল্লাহর দিদার সম্পর্কে আরো আয়াত ও হাদীস রয়েছে।

আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন,

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ♥ الأعراف: ١٨٠

“আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।” (সূরা আল আ‘রাফ : ১৮০)

পুর্ববর্তী অধ্যায়ঃ

◄রাফেযী(শিয়া)দের আবির্ভাব ও দলীয় নামকরন

পরবর্তী অধ্যায়ঃ

শিয়া ভ্রান্ত আক্বীদাঃ ২ (৯০ পারা কুরআন ও সাহাবা)