মহান আল্লাহর তাওহীদ ও আধুনিক বিজ্ঞান (পর্বঃ ১ – ৭)

মহান আল্লাহর তাওহীদ ও আধুনিক বিজ্ঞান

মুহাম্মদ উসমান গনি

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

কুরআন মহান আল্লাহ পাকের তরফ থেকে মানুষের জন্য হিদায়েত ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার একমাত্র সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ। এটি এমন একটি কিতাব যাতে আছে জীবনকে সুন্দর সহজ ভাবে সৎ পথে পরিচলার দিক-নির্দেশনাসহ জাতিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় ও পরকালীন জীবনের বিস্তারিত নর্ণনা এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করার উপায়। যেহেতু এটি একটি হিদায়েতের কিতাব কাজেই শিক্ষিত, অশিক্ষিত, স্বরুপ বলা যায় সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, পর্দাথ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিজ্ঞান যে ষিয়েই পারদর্শী হোন না কেন উক্ত সর্ব বিষয়েই পবিত্র কুরআনে ইঙ্গিত রয়েছে বলে মানুষ হিদায়েত পেতে পারে। এব্যাপারে ২/১টি উদাহরণ তুলে ধরছি যাতে সবার কাছে তা সুস্পষ্ট হয়। সূরা কাহাফে আসহাবে কাহাফদের সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ . سورة الكهف : 18ِ

“তুমি মনে করতে তারা জাগ্রত, কিন্তু তারা ছিল নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম ডান দিকে ও বাম দিকে। [সুরা কাহফঃ ১৮]

এই সূরা, এমনকি কুরআনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অধ্যায়ন করলে দীর্ঘ দিন ঘুমন্ত লোককে ডান দিকে ও বাম দিকে পরিবর্তন করানোর কথাটি বলার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হবে না। এতে না আছে পূর্বের বা পরের আয়াতের মিল, না আছে কোন প্রশ্নের উত্তর, আর না আছে কোন হিদায়েতের কথা। আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হবে এই কথাটি বলাই ছিল নিসপ্রয়োজন। কিন্তু না, তা কখনোই না। মহাজ্ঞানী আল্লাহ কি বিনা কারণে কুরআনের মত অহী গ্রন্থে এসব উল্লেখ করেছেন? আমি ডাক্তার হিসাবে এই আয়াতের অর্থ প্রথম পড়ার পর মনে হয়েছে সারা জীবন ও যদি সিজদায় পড়ে থাকি তাহলেও মানর জাতির জন্য এই শিক্ষার বিনিময় আদায় করা অসম্ভব। আমি নিজের অজান্তেই আল হামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ পড়ে কতক্ষণ যে নিশ্চুপ হয়েছিলাম তা মনে নেই। ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলি। মানুষের দীর্ঘ দিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা আবস্থায় যদি পার্শ্ব পরিবর্তন করানো না হয় তাহলে শরীরের নীচের অংশে ঘা হয়ে পচন ধরে। এক ভালো করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এমনকি রোগী রোগমুক্ত হয়েও এ মারা যায়। কাজেই ডাক্তারের কাছে অজ্ঞান রোগীকে পার্শ্ব পরিবর্তন করানোটা কত যে মূল্যবান তা বুঝতেই পারেন। সে ই কারণে আমরা অজ্ঞান রোগীর জন্য নেই ঘন ঘন পার্শ্ব পরিবর্তন করার. ভাবতে কেমন লাগে যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিস্কারের অনেক আগেই অজ্ঞান রোগীকে পার্শ্ব পরিবর্তনের নির্দেশ দিচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা । এই ব্যাপারটি আপনারা কিভাবে নিবেন তা আপনাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম। আর একটি উদাহরণ দিচ্ছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-কাসাসে ঘোষণা দেনঃ

إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فيه. سورة القصص: 72

অর্থ: আল্লাহ যদি দিবসকে কেয়ামত পর্যনত স্থায়ী রাখেন, আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য আছে কি যে তোমাদের জন্য রাত্রির আবির্ভাব ঘটাতে সক্ষম? [সুরা কাসসঃ ৭২]

পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে লাটিমের মত (লাটিম যেমন নিজের অক্ষের উপর ঘুরে, আবার দৌড়ায়ও) ঘুরে বলেই দিন, রাত্রি ও ঋতুর পরিবর্তন হয়। কিন্তু পৃথিবী যদি সূর্যের দিকে আজীবন একই দিকে মুখ করে ঘুরত তাহলে একদিক হতো চিরদিনের জন্য শুধু গরম আর গরম , আর অন্যদিক হতো অন্ধকার (রাত্রি) এবং ঠান্ডা আর ঠান্ডা। অথবা পৃথিবীর যে দিকে সূর্য আছে তার অপর দিকে যদি আরও একটি সূর্য থাকত তাহলে পৃথিবী যেভাবেই ঘুরত না কেন, সব সময়েই পৃথিবীর সম্পূর্ণ পৃষ্ঠ থাকত আলোকিত এবং গরম আর গরম। এই উভয় অবস্থাতেই পৃথিবীতে কোন জীব জন্তুর বসবাস করা সম্ভব হত না , যেমন চাঁদে কোন দিনই মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব হবে না । কারণ একেতো ওখানে বাতাস নেই, অধিকন্তু সব সময়েই একদিক পৃথিবীর দিকে মুখ করে ঘুরে বলে চাঁদের এক পৃষ্টের তাপমাত্রা ১১৭’, আর অন্য পৃষ্ঠের তাপমাত্রা (-) ১৩৬’। অতএব এক পৃষ্ঠে অতি গরম, আর অন্য পৃষ্ঠে অতি ঠান্ডা বিধায় মানুষের বসবানের অনুপযোগী। প্রশ্ন উঠতে পারে যে, নভোচারীরা কি করে চাঁদে ঘুরে এলো? নভোচারীরা যে পোশাক পরিধান করে চাঁদে ভ্রমন করেছিলেন তা চাঁদের আবহাওয়ায় ক্ষতি করতে পারে না। এই ধরণের পোশাক পরে মানুষ কিছু দিন থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ দিন থাকতে পারবে না। এরই মধ্যে অক্সিজেন, খাওয়া দাওয়া, টয়লেট, সব কিছুর সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। আর বর্তমানে এর মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৭ কোটি টাকা)। চাঁদে বসে এই পোশাক পরিবর্তন ও করতে পারবে না। পরিবর্তন করতে গেলেই সে মারা যাবে।

আমাদের পৃথিবী একটি গ্রহ। এই গ্রহের মত অরেক গ্রহ আছে যেখানে কোন রাত্রি নেই। এমনি একটি উদাহরণ হলো যার দুটি সূর্য এবং অষঢ়যধ মবহরঃরপ যার সূর্যের সংখ্যা ৩টি। অতএব পৃথিবী যদি উপরোক্ত অবস্থায় পতিত হতো তাহলে আমাদের অবস্থা কি হতো, একটু ভেবে দেখবেন কি?

 

এই আলোচ্য বইটিতে বিভিন্ন অধ্যায় এ সৃষ্টির বিভিন্ন দিক ও তার মাধ্যমে আল্লাহর তাওহীদের উদাহরনগুলো সুন্দর ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়কে নিচে LINK করে দেয়া হলঃ

  • আল্লাহর সাথে শরীক করা,
  • মানুষ সৃষ্টির কারণ এবং
  • ইবাদাতের অর্থ কি?