আল্লাহ কোথায়??

আল্লাহর অবস্থান বিবরনে আল’কুর’আন

সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি মানব ও জ্বীন জাতিকে তাঁর একত্বতা ঘোষনা করার জন্য সৃষ্টি করেছেন।স্বলাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নাবী ও রসূল মুহাম্মাদ (সঃ) উপর যিনি তার উম্মাতের কাছে আল্লাহর একত্বতার বিস্তারিত জ্ঞান বর্ননা করে গেছেন। আরো স্বলাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার পরিবার  ও সাহাবাদের উপর যারা তাঁর কাছে থেকে তাওহীদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। অতঃপর হে সম্মানিত পাঠক পাঠিকাগণ! পরকালে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই সঠিক ইসলামী আক্বীদা জানতে ও তার প্রতি আমাল করতে হবে। অন্যথায় পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে না।এ সঠিক আক্বীদার অনেক মাস’আলা রয়েছে। তার মধ্যে আল্লাহ কোথায় অবস্থান করছেন এটিও গুরুত্বপুর্ন আক্বীদার মাস’আলা, যাতে ভ্রান্ত দল জাহিমিয়ারা সহ আরো বহু ভ্রান্ত দলসমূহ পথ ভ্রষ্ট হয়েছে। আমি আল্লাহর নিম্নের বানীর উপর আমল করত উক্ত গুরুত্বপুর্ন মাস’আলাটি সম্মানিত পাঠক পাঠিকাগণের জন্য এখানে আল-কুর’আনের আলোকে তুলে ধরলাম। যাতে তারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং সূফীদের একক অস্তিত্বের ভ্রান্ত বিশ্বাস (আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান) থেকে বাচতে পারে। তাদের নিকট একক অস্তিত্বের অর্থ হলঃ

“খালেক- সৃষ্টিকারী ও মাখলুক- সৃষ্টজীব এর পার্থ্যক নাই। সব মাখলুকই সৃষ্টজীব আর সব ইলাহই উপাস্য”

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“(স্মরন করো সেই সময়ের কথা) আর আল্লাহ যখন আহলে কিতাবদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলেন যে, তা মানুষের নিকট বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না, তখন তারা সে প্রতিজ্ঞাকে নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল আর তার কেনা-বেচা করল সামান্য মূল্যের বিনিময়ে। সুতরাং কতই না মন্দ তাদের এ বেচা-কেনা।” [সুরা আলি-ইমরানঃ ১৮৭]

আর সে মাস’আলাটির ব্যাপারে আহ্লুস সুন্নাত ওয়াল জাম’আতের আলিম ও অনুসারীদের আক্বীদা বা বিশ্বাস হলঃ তারা সুদৃড় বিশ্বাস করে যে নিশ্চই আল্লাহ তা’আলা স্বসত্তায় ও নিজ গুনাবলী সহ আরশের উপর সমুন্নত। সকল সৃষ্ট জীব থেকে আলাদা ও পৃথক। তারা (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের লোকেরা) ভ্রান্ত জাহিমীয়ারা যেমন বলে যে আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট জীবের সাথে জমিনে সর্বত্র বিরাজমান আছেন এমন ভ্রান্ত কথা বিশ্বাস করেন না। আর যারা জাহিমীয়াদের মত বলবে যে আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট জীবের সাথে জমীনের আছেন তারা পথভ্রষ্ট ও কাফির হয়ে যাবে। কারন তাদের এ আক্বীদা ক্বুর’আন সহীহ হাদিস, সাহাবা, তাবেঈ ও ইসলামের ইমামগনের বিশ্বাদের পরিপন্থি বিশ্বাস। এখানে একটি সংশয় নিরশন দরকার। যার কারনে জাহমীয়া ও কিছু সূফীরা এতে বিপথগামী হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর কিছু আয়াতে বলেছেনঃ

“তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক।”        [সুরা হাদীদঃ ৪]

তারা এ আয়াত থেকে ও এর সমার্থক আয়াত থেকে বুঝেছেন যে তিনি স্বসত্তায় তাঁর সৃষ্টজীবের সাথে আছেন। ইন্তু তাদের এ বুঝ ক্বুর’আন সহীহ হাদিস, সাহাবা, তাবেঈ ও ইসলামের ইমামগনের বিশ্বাদের পরিপন্থি বিশ্বাস।

এ আয়াতের সঠিক তাফদীর নিম্নরূপ। তিনি আরশের উপর সমুন্নত থেকে তাঁর সৃষ্টজীবের সাথে আছেন একথার অর্থ হলঃ

“তিনি সৃষ্টজীবের অবস্থান জানেন, তাদের কথা শুনেন, তাদের কর্মসমুহ দেখেন, তাদের বিষয় সমুহ পরিচালনা করেন, দরিদ্রকে রূযী দেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরন করে দেন, যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন, যার কাছে থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন, যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন, যাকে ইচ্ছা অপমান করেন, তাঁরই হাতে সকল কল্যান এবং তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। ”

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের আক্বীদা, হল আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নত। তারা তাদের এ আক্বীদার উপর আল-কুর’আনের নিম্নোক্ত আয়াতসমুহ পেশ করে প্রমান গ্রহন করেনঃ

১.       ☼ الرَّحْمَٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ ☼

◄তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। ►      [সুরা ত্বহাঃ ৫]

এখানে ইস্তাওয়া অর্থ ইরতা’ফায়া।  এর অর্থ হল সে উঁচু হল। ইস্তাওয়া ইলাস সামায়ে এর অর্থ, তিনি (আল্লাহ) আকাশের উপর আরশের উপর উচূ হলেন। প্রখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ (রঃ) বলেছেন, ইস্তাওয়া অর্থ আ’লা। এর অর্থ তিনি সমুন্নত হলেন। আ’আল আলাল আরশি, এর অর্থঃ তিনি (আল্লাহ) আরশের উপর সমুন্নত হলেন। দেখুনঃ সহিহ বুখারী [বাবু অয়া কানা আরশুহু আ’লাল মায়ে]

হে প্রিয় পাঠক পাঠিকাগন! আল-কুর’আনে ব্যাবহৃত সকল ইস্তাওয়া অর্থঃ তিনি (আল্লাহ ) আরশের উপর উচু হলেন বা সমুন্নত হলেন। ইস্তাওয়া ক্রিয়াটি কুর’আনে মোট ৯ বার ব্যাবহার হয়েছে।

২. ☼ وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ ۖ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ ☼

◄ তিনিই আল্লাহ নভোমন্ডলে এবং ভূমন্ডলে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা কর তাও অবগত।►               [সুরা আন’আমঃ ৩]

এ আয়াতে “ ফী আ’লা ” এর অর্থে ব্যাবহৃত হয়েছে অর্থঃ তিনিই আল্লাহ আসমান সমুহের উপর আছেন।

৩.  ☼ بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ☼

◄ বরং তাঁকে (ঈসা মাসীহকে) উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ►      [সুরা নিসাঃ ১৫৮]

৪. ☼ تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ☼

◄ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। ►           [সুরা মা’আরিজঃ ৪]

 

৫.  ☼ يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ☼

◄  তারা তাদের উপর পরাক্রমশালী তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তারা যা আদেশ পায়, তা করে           ►[সুরা নাহলঃ ৫০]

 

৬. ☼ أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ ☼

◄ তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। ►               [সুরা মুলকঃ ১৬]

 

৭. ☼ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ ☼

◄ না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। ►           [সুরা মুলকঃ ১৭]

 

৮.  ☼ ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ  ☼

◄মহান আরশের অধিকারী।►            [সুরা বুরুজঃ ১৫]

 

৯. ☼ قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ  ☼

◄বলুনঃ সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক কে? ►                            [সুরা মু’মিনুনঃ ৮৬]

১০. ☼ ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ  ☼

◄যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাশালী, ►      [সুরা তাক্ববীরঃ ২০]

 

১১. ☼ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ  ☼

◄আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।►                  [সুরা নামলঃ ২৬]

 

১২. ☼ سُبْحَانَ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ  ☼

◄তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, আরশের পালনকর্তা পবিত্র।  ►[সুরা যুখরুফঃ ৮১]

 

১৩. ☼ فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ  ☼

◄ অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত (সত্য) কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।    ►               [সুরা মু’মিনুনঃ ১১৬]

১৪. ☼ قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَّابْتَغَوْا إِلَىٰ ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ☼

◄বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক পর্যন্ত পৌছার পথ অন্বেষন করত। ►               [সুরা আল-ইসরাঃ ৪২]

১৫. ☼ لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ  ☼

◄ যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।    ►     [সুরা আম্বিয়াঃ ২২]

১৬. ☼ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ☼

◄ এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি। ► [সুরা তাওবাঃ ১২৯]

 ১৭. ☼ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۚ الرَّحْمَٰنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا  ☼

◄ তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর। ►  [সুরা ফুরক্বানঃ ৫৯]  

 

১৮. ☼ رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ  ☼

◄ তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে। ►                [সুরা গাফিরঃ ১৫]

 

১৯. ☼ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ مَا لَكُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ ۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ  ☼

◄ আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না? ►   [সুরা সাজদাঃ ৪]

২০. ☼ هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۚ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ۖ وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ  ☼

◄ তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। ►    [সুরা হাদীদঃ ৪]

 

২১. ☼ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ۖ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِن بَعْدِ إِذْنِهِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ  ☼

◄ নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ?   ►[সুরা ইউনুসঃ ৩]   

 

২২. ☼ اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ ☼

◄ আল্লাহ, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। ►          [সুয়া র’দঃ ২]

 

২৩. ☼ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ  ☼

◄ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। ► [সুরা আ’রফঃ ৫৪]

 

হে সম্মানিত পাঠক পাঠিকাগন ! আমি আশা করি আপনারা পুর্বের আলোচনা থেকে আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে আহ্লুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের আক্বীদা আল-কুর’আনের আলোকে জানতে পেরেছেন।  আর তা হলো আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নত। তবে তিনি সৃষ্টজীবের সব কিছু জানেন, দেখেন, পরিচালনা করেন ও তার প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ সবাইকে এই মাস’আলাটি সহ আক্বীদার অন্যান্য মাস’আলাসমুহ সঠিকভাবে জানার তাওফীক দান করুন।

পরিশেষে আমি সারা বিশ্বের সকল মানুষকে জানিয়ে দিতে চাই, যে কেবল সহীহ আক্বীদাই বা সঠিক বিশ্বাসই সারা বিশ্বের মানুষের হৃদয়, বানী ও তাদের কাতারকে একত্রিত করতে পারে। যেমন, (এ সঠিক বিশ্বাস) এ উম্মাতের প্রথম যুগের মানুষের অন্তর, বানী, কাতারকে এক করেছিল। তাঁরা (সাহাবারা) নাবী (সঃ) এর নেতৃত্বে তাওহীদের ছায়াতলে একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁরা এক দলভুক্ত হয়েছিলেন। তাই তাদের মত একত্রিত হওয়া ও একত্রিত করার জন্য প্রত্যেকেই কুর’আন ও সহীহ হাদিসের আলোকে সঠিক আক্বীদা শিখা ও প্রচার ও প্রসার করার জন্য সর্বশক্তি ব্যয় করা প্রয়োজন।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক আক্বীদা শিখার তার প্রতি আমাল করার ও তার যথাযথ প্রচার ও প্রসার করার তাওফীক দান করুন। আমীন